Advertisement
E-Paper

যা খাচ্ছেন, তাতেই বদহজম! বর্ষায় কোন কোন খাবার পেটের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে?

সব সময়ে ডায়ারিয়ার মতো বড় সমস্যা হবে তার কোনও মানে নেই। অনেক সময়ে কিছু নাছোড় পেটের সমস্যাও দিনের পর দিন চলতে থাকলে তা শরীরের রোগপ্রতিরোধ শক্তিকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয় বর্ষায়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ অগস্ট ২০২৬ ২০:২৯

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ব্যাপারটা নতুন নয়। পেটখারাপ, হজম না হওয়া, গ্যাস-অম্বল, বুকজ্বালা আগেও হয়েছে। কিন্তু বর্ষায় সেই সমস্যা যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না! আজ ভাল তো কাল-পরশু খারাপ। পেট ফেঁপে ঢোল। খিদে পাচ্ছে না মোটেই। এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্য কিছুটা হলেও দায়ী বর্ষা ঋতু। আর কিছুটা অসতর্ক খাওয়াদাওয়া।

বর্ষায় খাওয়াদাওয়ার অসতর্কতায় সহজেই পেটে সংক্রমণ বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তার জেরে যে সবসময়ে ডায়ারিয়ার মতো বড় সমস্যা হবে, তার কোনও মানে নেই। অনেক সময়ে কিছু নাছোড় পেটের সমস্যাও দিনের পর দিন চলতে থাকলে তা শরীরের রোগপ্রতিরোধ শক্তিকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয় বর্ষায়। বর্ষায় এমন সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে চাইলে নিজেকেই সতর্ক হতে হবে। আর কিছু না হোক, কয়েকটি খাবার থেকে যদি বর্ষাকালে দূরে থাকা যায়, তা হলেই রোগের ঝুঁকি অনেকখানি কমতে পারে।

কী কী খাবার বর্ষায় এড়িয়ে চলবেন?

১। সম্পূর্ণ রান্না না করা মাংস

মার্কিন সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানাচ্ছে, মুরগির মাংস এবং রেড মিট যদি সম্পূর্ণ রান্না না করা হয়, তবে তা থেকে সালমোনেলা, ই.কোলাই-সহ আরও অনেক ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া থেকে যায়। গ্রিল করা বা তন্দুরে সেঁকা মাংসের টুকরোয় অনেক সময়েই ভিতরের অংশ সম্পূর্ণ রান্না হয় না। কিন্তু মাংস যদি কড়াইয়ে তেল দিয়ে কষিয়ে বা জল দিয়ে ফুটিয়ে রান্না করা হয়, তবে সেই ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষায় যেহেতু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি তাই ওই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল।

২। সম্পূর্ণ রান্না না হওয়া ডিম

অনেকেই অমলেটে সামান্য কাঁচা ভাব রেখে দিতে পছন্দ করেন। অনেকে ডিম হাফ বয়েল বা অর্ধেক সেদ্ধ করে খান। পোচ খেলেও কাঁচা ভাব থেকে যায় কুসুমে। বর্ষায় তা না করে সম্পূর্ণ ভাবে রান্না করা ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন গোয়ানিবাসী পুষ্টিবিদ লিউক কুটিনহো। তিনি বলছেন, অনেকেই বাড়িতে কাঁচা ডিম দিয়ে মেয়োনিজ় বানান। তাই সম্পূর্ণ রান্না না হওয়া ডিম থেকেও বর্ষায় পেটের অসুখ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩। সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, ঝিনুক

সামুদ্রিক মাছ বা খোলস আছে এমন জলজ প্রাণী, যেমন চিংড়ি, কাঁকড়া, ঝিনুক, স্কুইডের মতো খাবার অবশ্যই উপাদেয়। কিন্তু বর্ষায় তা খেলে রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ, বর্ষাকাল হল মাছেদের প্রজননের সময়। এই সময়ে মাছেদের শরীরে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং বিষাক্ত পদার্থ থাকে অনেক বেশি। তাই সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি। বর্ষায় কাঁচামাছ দিয়ে তৈরি খাবার যেমন, ঝিনুকের মাংসের পদ, সুশি ইত্যাদি এড়িয়ে চলাই ভাল।

৪। পাস্তুরাইজ়ড নয় এমন দুধ এবং চিজ়

পাস্তুরাইজ়ড না করা দুধ বা তা থেকে তৈরি খাবারে লিস্টেরিয়া নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। বর্ষায় প্রক্রিয়াকরণ না করা নরম চিজ় থেকেও পেটের সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৫। দীর্ঘক্ষণ আগে রান্না করা ভাত বা পাস্তা

রান্না করা ভাত, নুড‌্‌ল বা পাস্তা যদি দীর্ঘক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা হয়, তবে বর্ষায় তাতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রভূত বেশি। সেই খাবারই পরে ফ্রিজে তোলা হয়। তাই বর্ষায় ফ্রিজে রাখা খাবার ভাল ভাবে গরম করে তবেই খাওয়া উচিত। নয়তো ফেলে দেওয়াই শ্রেয়।

৬। কাঁচা সব্জি এবং ফল

অনেকেই স্যালাডে কাঁচাপাতা বা সব্জি ব্যবহার করেন। বর্ষাকালে তেমন না করাই ভাল। ভাল ভাবে না ধুলে কাঁচা আনাজে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। একই ভাবে বাইরে কাটা ফল বা বাড়িতে ভাল ভাবে না ধুয়ে ফল খেলেও তা থেকে সমস্যা হতে পারে।

Monsoon Foods Monsoon Care Food Safety Food Poisoning

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy