ছোট্ট একটি যন্ত্র। শক্তি ও প্রযুক্তিতে যা টেক্কা দিতে পারে ইলন মাস্কের স্টার্ট আপ সংস্থা নিউরালিঙ্কের তৈরি ব্রেন চিপকেও। মাস্কের চিপ তো মগজ কেটে ভিতরে বসাতে হয়। কিন্তু দেশের তৈরি যন্ত্র ‘টেম্পল’ কপালের পাশে সেঁটে নিলেই হবে। মস্তিষ্ক থেকে আসা সঙ্কেত যে হুড়মুড়িয়ে পড়ে নেবে। জানাবে, হার্ট, লিভার ও শরীরের অন্দরের নানা খবর। সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তাও দেবে। স্মার্টওয়াচের বিকল্প হিসেবে খুব তাড়াতাড়িই দেশের বাজারে আসতে চলেছে মগজ পড়ার ওই যন্ত্র।
শরীরের খবরাখবর দেবে ‘টেম্পল’
জ়োম্যাটো কর্তা দীপেন্দ্র গয়ালের স্টার্ট-আপ সংস্থা টেম্পল নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করছে। যন্ত্রটি আপাতত পরীক্ষামূলক স্তরেই রয়েছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি সেটি দেশের বাজারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে গয়ালের। তিনি জানিয়েছেন, এটিও একটি ব্রেন চিপ, যার প্রযুক্তি স্মার্টওয়াচের চেয়েও উন্নত। স্মার্টওয়াচ কব্জিতে বেঁধে রাখতে হয়, কিন্তু এটি কপালের পাশে লাগিয়ে রাখলেই হবে। তাতেই স্বাস্থ্যবিষয়ক সমস্ত খবর সে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে দিতে পারবে।
আরও পড়ুন:
যন্ত্রটির কাজ হবে মস্তিষ্ক থেকে আসা সঙ্কেত পড়ে ফেলা, যা স্মার্টওয়াচ করতে পারে না। ইলন মাস্কের ব্রেন চিপও এই কাজটিই করে, তবে সেটিকে অস্ত্রোপচার করে মস্তিষ্কের ভিতরে প্রবেশ করাতে হয়। কিন্তু ‘টেম্পল’ কপালে লাগিয়ে নিলে একই ভাবে কাজ করবে বলে দাবি জ়্যোমাটো কর্তার। তাঁর মতে, মস্তিষ্কে রক্তসংবহনের কাজটি দ্রুত হয়। কাজেই সেখানে চিপ বসিয়ে রাখলে রক্তনালির চাপ ও প্রভাব সরাসরি মাপা যাবে। ধরা যাবে, মস্তিষ্ক থেকে সারা শরীরে কী ধরনের সঙ্কেত প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্কেত পড়ে ও বুঝে যন্ত্রটি জানাতে পারবে, স্বাস্থ্যের বড়সড় ঝুঁকি আছে কি না, হার্ট, লিভার, কিডনি বা শরীরে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগ ঠিকমতো স্থাপিত হচ্ছে কি না, কোনও অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও আছে কি না।
স্মার্টওয়াচের মতো হাতে নয়, কপালের পাশে লাগাতে হবে টেম্পল।
টেম্পল কী ভাবে কাজ করবে?
এটি কোনও সাধারণ ফিটনেস ট্র্যাকার নয়। গয়াল জানিয়েছেন, মস্তিষ্কের ভিতরে কী ঘটছে, তা জানার জন্যই সেটি বানানো। এটি পরে থাকলে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে কি না, তা-ও জানা যাবে।
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হচ্ছে কি না বা স্নায়বিক কোনও রোগের আশঙ্কা আছে কি না, তা ধরা পড়বে এই যন্ত্রের ট্র্যাকারে। পারকিনসন্স, অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগে আক্রান্তদের জন্য এই যন্ত্রটি কার্যকর হতে পারে বলেই আশা রাখছেন জ়োম্যাটো কর্তা।
নিখুঁত ভাবে হৃৎস্পন্দনের গতি মাপতে পারবে যন্ত্রটি। ব্যায়াম করার সময়ে, বিশ্রামের সময়ে হার্ট কী ভাবে কাজ করছে, কী ভাবে শরীরে রক্তসঞ্চালন হচ্ছে, তার খুঁটিনাটিও জানা যাবে।
টেম্পলের আর একটি কাজ হবে ‘এন্ট্রপি ট্র্যাকিং’। অর্থাৎ, শরীরের কতটা শক্তি কোন খাতে বেশি খরচ হচ্ছে তা পরিমাপ করা। সাধারণ ফিটনেস ট্র্যাকার যা করতে পারবে না। এতে দু’রকম স্কেল থাকবে— রেস্টিং এন্ট্রপি ও ম্যাক্স এন্ট্রপি। প্রথমটিতে বিশ্রামের সময়ে শরীরের শক্তি কী ভাবে খরচ হয়, তা জানা যাবে। এটির মান যত কম হবে, তত ভাল। দ্বিতীয়টিতে, পরিশ্রমের সময়ে কতটা শক্তি খরচ হচ্ছে ও সেই সময়ে হার্ট ও মস্তিষ্ক কী ভাবে কাজ করছে, তা জানা যাবে। খেলোয়াড়দের জন্য দ্বিতীয় স্কেলটি বেশি কাজে আসবে।
ঘুমনোর সময়ে, ধ্যান করার সময়ে বা স্নানের সময়ে, হৃৎস্পন্দন কী ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, ওই সময়ে মস্তিষ্কের ভিতর কী ঘটছে, তা-ও ধরা পড়বে যন্ত্রের ট্র্যাকারে।
খরচ কত?
যন্ত্রটি এ বছরেই বাজারে চলে আসতে পারে। সম্ভাব্য দাম ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকার মতো হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।