একসময় তেলমশলাযুক্ত খাবার, মাছ-মাংস, ছোলে-বাটুরে, রাজমা-চাওল— এ সব ছাড়া দিন চলত না তাঁর। এককথায়, ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি বড়ই খাদ্যরসিক ছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটের জন্য খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ যাপন বদলে ফেলেছেন অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মার স্বামী। আর সেই বদল আপাদমস্তক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিরাটের ডায়েট সম্পর্কে জানালেন রন্ধনশিল্পী অরুণ চৌহান, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন রাঁধুনি।
বিরাটের সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। ছবি: সংগৃহীত
তাঁর কথায়, বিরাটের খাদ্যাভ্যাসে যে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে কঠোর শৃঙ্খলা এবং নিজের শরীরকে নতুন করে গড়ে তোলার তাগিদ। অরুণের কথায় জানা যায়, কেরিয়ারের শুরুর দিকে বিরাট প্রায় সব ধরনের খাবারই খেতেন। তেলমশলাযুক্ত খাবার তাঁর খুব পছন্দ ছিল। কিন্তু পরে নিজের শারীরচর্চা এবং খেলায় আরও ভাল ফল করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেলেন। চৌহানের কথায়, ‘‘ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ছিলেন তাঁর অনুপ্রেরণা। কারণ, সারা বিশ্বে রোনাল্ডো একমাত্র খেলোয়াড়, যাঁর শরীরে মেদ প্রায় নেই বললেই চলে। ভবিষ্যতে বিরাট তাঁর জায়গা নেবেন। আপনি কাকে অনুসরণ করছেন, তা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।’’
এই মুহূর্তে তিনি নিরামিষ খাবারের উপর বেশি জোর দেন। পনিরের বদলে টোফু, প্রচুর স্যালাড, অঙ্কুরিত শস্য, ডাল এবং নানা ধরনের শাকসব্জি, যেমন লেটুস তাঁর খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, বিরাটের এই যাত্রার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে চলার অভ্যাস। এক জন ক্রীড়াবিদের জন্য শারীরচর্চা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ সঠিক খাবার। কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং কখন খাচ্ছেন— এই তিনটি বিষয়ই শরীরের শক্তি, পেশির গঠন, হজম এবং মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।
তবে হঠাৎ করে খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেললে সবার ক্ষেত্রে একই ফল না-ও মিলতে পারে। বয়স, শারীরিক অবস্থা, কাজের ধরন এবং প্রয়োজন প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই আলাদা হয়। তাই অন্য কারও খাদ্যতালিকা হুবহু অনুসরণ না করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়াই শ্রেয়।
বিরাটের পরিবর্তনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সচেতন ভাবে খাওয়া। শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, শরীরের প্রয়োজন বুঝে খাবার নির্বাচন করা, অতিরিক্ত তেলমশলা এড়ানো এবং পুষ্টিগুণের দিকে নজর দেওয়াই তাঁর নতুন যাপনের অংশ হয়ে উঠেছে। এই ধরনের অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদে শরীর ও মনের উপর ভাল প্রভাব ফেলতে পারে।