Advertisement
E-Paper

শামোন্ডা ভাইরাসের আতঙ্ক বিশ্ব জুড়ে, পশুর থেকে মিশছে মানুষের রক্তে, করোনার চেয়েও কি ভয়াবহ?

শামোন্ডা ভাইরাসের হানায় ফ্রান্সে প্রাণ গিয়েছে এক ব্যক্তির। গবাদি পশুর শরীরে এমন ভাইরাস বাসা বাঁধে। তবে তা এখন ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের শরীরেও। বিশ্ব জুড়ে সতর্কতা জারি করেছে হু।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:০২
France Reports First Human Case of Shamonda Virus, Symptoms, Transmission, and Public Health Risks

প্রাণ কাড়ছে শামোন্ডা ভাইরাস, কতটা ভয়াবহ? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আরও এক জাঁদরেল ভাইরাসের হানায় বিশ্ব জুড়েই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গবাদি পশুর শরীরে যে ভাইরাস খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল, তা এখন ছড়াচ্ছে মানুষের শরীরেও। ১৯৬০ সালে নাইজেরিয়ার এক খামারে প্রথম এই ভাইরাসের দেখা মিলেছিল। এখন বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে এই ভাইরাসের হানার কথা শোনা যাচ্ছে। ফ্রান্সে শামোন্ডার সংক্রমণে প্রাণ গিয়েছে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তির। কী এই ভাইরাস, তা কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, সে নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

ফ্রান্সে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পরেই টনক নড়ে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের। স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করে শামোন্ডা ভাইরাসের এক প্রজাতির দেখা মিলেছে। এই প্রজাতি গরু, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া ইত্যাদি গবাদি পশুর শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। কিন্তু মানুষের শরীরে এদের দেখা পাওয়া যায়নি কখনও। এই প্রথম বার এমন ভাইরাসের খোঁজ পাওয়া গেল মানুষের শরীরেও। কী ভাবে ওই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস ঢুকছে, তা এখনও জানা যায়নি। অনুমান করা হচ্ছে, আক্রান্ত কোনও পশুর থেকেই ভাইরাস ওই ব্যক্তির শরীরে ঢুকেছে। মারাত্মক সংক্রমণ থেকেই মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির।

কী এই শামোন্ডা ভাইরাস?

গবাদি পশুর শরীরে বাসা বাঁধে এই ভাইরাস। এদের সংক্রমণে পশুদের প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যা হয়। জ্বর, ডায়ারিয়া, চামড়ায় সংক্রমণ, দুধের উৎপাদন কমে যাওয়া, এমনকি স্নায়বিক সমস্যাও দেখা দেয়। মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ সে অর্থে হয় না। তবে ফ্রান্সের ঘটনাটি বিরল। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, মশা বা মাছির মাধ্যমে এই ভাইরাস পশুর শরীর থেকে মানুষের শরীরে ঢুকে সরাসরি রক্তে মিশেছে। শামোন্ডার সংক্রমণ ঘটানোর বিশেষ পদ্ধতি আছে। শরীরে ঢুকলে সবচেয়ে আগে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে তছনছ করে এই ভাইরাস। ফলে, শরীর দুর্বল হতে থাকে ও সহজেই নানা রোগ এসে বাসা বাঁধে। শামোন্ডায় আক্রান্ত হলে সামান্য জ্বর বা ডায়ারিয়াতেও মৃত্যু ঘটতে পারে।

শামোন্ডা ভাইরাস ইউরোপের দেশগুলিতে ছড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর দুই প্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছে নানা দেশে। যদিও ফ্রান্সের ঘটনা ছাড়া এখনও পর্যন্ত মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে গবেষকেরা অনুমান করছেন, ভাইরাস যেহেতু একবার তার রূপ বদল করেছে এবং মানুষের শরীরে প্রবেশ করার উপায় খুঁজে পেয়েছে, তাই এমন ঘটনা আবার ঘটতে পারে। আক্রান্তের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের শরীরেও ঢুকতে পারে ভাইরাস আর সেখান থেকে ছড়াতে পারে আরও অনেকের শরীরেই। তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে হু।

infectious disease

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy