সকালবেলা চায়ে চুমুক দিতেই ছ্যাঁক করে উঠল মুখের ভিতরটা। আয়নায় দেখলেন, গালে ছোট্ট সাদা ঘা। কারও হয় মাসে একবার, কারও আবার সারাবছর। অনেকেই ভাবেন, পেট গরম, তাই ঘা হয়েছে। কেউ ভাবেন দাঁতের কামড় লেগে ঘা হয়েছে, কিন্তু চিকিৎসক বলছেন অন্য কথা। চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্যের মতে, এই সমস্যার পোশাকি নাম রিকারেন্ট অ্যাপথাস আলসার বা ক্যাঙ্কার সোর। এটি কোনও ছোঁয়াচে রোগ নয়, তবে অসম্ভব যন্ত্রণাদায়ক।
কেন বারবার ফিরে আসে?
ডাঃ ভট্টাচার্য বলছেন, এর পিছনে একটা কারণ নেই। অনেকগুলি কারণ একসঙ্গে কাজ করে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘অনেক সময় রোগী বলেন, আমার পেট পরিষ্কার হচ্ছে না, তাই ঘা হচ্ছে। কিন্তু এর আসল কারণ হতে পারে মানসিক চাপ, হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যাওয়া, মুখের ভিতরে ব্রাশ করতে গিয়ে ছোট্ট আঘাত, বা খুব বেশি টক-ঝাল খাওয়া।’’
চিকিৎসকের কথায়, যাঁদের বারবার এই সমস্যা হয়, তাঁদের শরীরে ভিতরে ভিতরে কিছু ঘাটতি থেকে যায়, যা খালি চোখে বোঝা যায় না। বারবার হলে কোন পরীক্ষা করাবেন? অন্বিতের মতে, যদি বছরে ৪-৫ বারের বেশি মুখে ঘা হয়, তাহলে একবার রক্তপরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে দেখতে হবে হিমোগ্লোবিন, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, ফেরিটিনের মাত্রা ঠিক আছে কি না। এ ছাড়া আয়রন, ভিটামিন বি ১২ ও ফোলেটের মাত্রাও পরীক্ষা করানো যেতে পারে।
কী ভাবে সামলাবেন?
এই সমস্যা হলে ডাক্তার দেখানোর আগে কিছু ঘরোয়া যত্নে আরাম পাওয়া যায়।
১. নুন-জলের জাদু: এক গ্লাস হালকা গরম জলে এক চিমটে নুন দিয়ে দিনে ২-৩ বার কুলকুচি করুন। গিলবেন না। এতে জীবাণুর সংখ্যা কমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
২. ব্রাশ বদলান: শক্ত ব্রাশে ঘষা লেগে ঘা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই সময়ে ব্যবহার করুন একদম নরম টুথব্রাশ।
৩. খাবারে বিরতি: কয়েক দিনের জন্য অতিরিক্ত গরম, ঝাল, আচার, লেবু, নরম পানীয় এড়িয়ে চলুন।
কোন ভুলটা করবেন না?
অনেকে ঘায়ের উপর সরাসরি নুন, লেবুর রস বা অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট চেপে ধরেন। ডাঃ ভট্টাচার্যের মতে এতে সাময়িক জ্বালা কমলেও, ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য কখনওই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। বাজারে নানা ধরনের জেল পাওয়া যায়, কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার না করাই ভাল।
কখন সতর্ক হবেন?
সব ঘা কিন্তু সাধারণ নয়। যদি ঘা ১৪ দিনের বেশি থাকে, ঘায়ের আকার ১ সেন্টিমিটারের বেশি বড় হয়, একই জায়গায় বারবার ঘা ফিরে আসে, সঙ্গে জ্বর, চোখ লাল হওয়া, যৌনাঙ্গে ঘা বা হঠাৎ ওজন কমে গেলে তা অন্য কোনও অটোইমিউন রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সময় অপচয় না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।