থাইরয়েডের মাত্রা বৃদ্ধির সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোনের মাত্রার তারতম্য হলে তার প্রভাব পড়ে শরীরে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে হৃৎস্পন্দন ঠিক রাখা, বিপাকক্রিয়া— এই সব কিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় থাইরয়েড গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনের দ্বারা। সেই কারণে হরমোনের মাত্রার হেরফের হলে ক্লান্তি, উদ্বেগ, বুক ধড়ফড়ানি, অল্পেই ঠান্ডা লাগা, ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া-সহ নানা রকম উপসর্গ দেখা দেয়। তা ছাড়া, থাইরয়েডের কার্যকারিতা, হরমোনের মাত্রার সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি বা কমাও সম্পর্কিত।
থাইরয়েড হলে বাদের খাতায় চলে যায় বেশ কিছু খাবার। বাঁধাকপি, ফুলকপি, সয়াবিন, পনির, চিজ়, মুলো-সহ বেশ কিছু খাবারের উপর বিধিনিষেধ আরোপ হয়। খাওয়া যায় না তা নয়, তবে বেশি খাওয়া চলে না।
কিছু খাবার যেমন নিয়ন্ত্রণ করা ভাল, কিছু খাবার তেমনই থাইরয়েডের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। জেনে নিন, কোন কোন খাবার প্রাতরাশে খাওয়া যায়।
জ়িঙ্ক, আয়োডিন, কপার, আয়রনের মতো খনিজ থাইরয়েডের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। বেছে নিন এমন খাবার, যাতে রয়েছে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রয়োজনীয় খনিজ।
পুর ভরা অমলেট
পাশংশাক দিয়ে পুর ভরা অমলেট বানিয়ে ফেলতে পারেন। ছবি:সংগৃহীত।
জলখাবারে খান পুরভরা অমলেট। পালংশাক ভাপিয়ে জল ঝরিয়ে নিন। অমলেট তৈরির সময় মিহি করে কুচোনো পেঁয়াজ, পালংশাক পুর হিসাবে দিন। স্বাদমতো নুন, গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন। অল্প তেলে আঁচ কমিয়ে রান্নাটি করতে হবে, যাতে ডিমের পুষ্টিগুণ নষ্ট না হয়। এর সঙ্গে ১টি বা ২টি মাল্টিগ্রেন ব্রেড দিয়ে তৈরি পাউরুটি এবং মাখন টোস্ট খেতে পারেন। সঙ্গে স্যালাড। ডিমে রয়েছে সেলেনিয়াম, যা থাইরয়েড গ্রন্থি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পালংশাকে মেলে ম্যাগনেশিয়াম, বি ভিটামিন।
মুগডাল চিলা
মুগডালের চিলাও খেতে পারেন। ছবি:সংগৃহীত।
মুগডাল এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সামান্য আদা, কাঁচালঙ্কা, স্বাদমতো নুন দিয়ে মিক্সারে ঘুরিয়ে নিন। মিশ্রণটি একটু পাতলা হবে। কড়াইয়ে অল্প তেল দিয়ে হাতার সাহায্যে মিশ্রণটি দিয়ে গোল পাতলা চিলা বানিয়ে ফেলুন। অল্প করে গ্রেট করা পনির, আখরোটকুচি, চাট মশলা ছড়িয়ে চিলার ভিতরে দিয়ে সেটি আড়াআড়ি মুড়ে নিন। প্রাতরাশে এর সঙ্গে জুড়ে নিন আপেল বা পেয়ারার মতো ফল। মুগডালে রয়েছে জ়িঙ্ক এবং প্রোটিন। জ়িঙ্ক থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
কাবলি ছোলার ঘুগনি
কাবলিছোলার ঘুগনি। ছবি:সংগৃহীত।
কাবলি ছোলায় প্রোটিন যথেষ্ট। এতে ফোলেট, কপার, আয়রন, জ়িঙ্ক-সহ একাধিক খনিজ রয়েছে, যা থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা রক্ষায় উপযোগী। কাবলি ছোলা সেদ্ধ করে আদা-জিরে বাটা, টম্যাটো দিয়ে কষিয়ে ঘুগনি বানিয়ে নিন। গাজর, শসা, পেঁয়াজকুচি, ভাজা মশলা দিয়ে সেটি খেতে পারেন। সঙ্গে রাখুন স্যালাড এবং ফল।