আশিতে আসিও না? উঁহু বরং এলে এমন ৮০-তেই আসিও! ৮০ বছরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে সেই বার্তাই দিলেন হলিউডের অভিনেতা আর্নল্ড শোয়ার্ৎজ়েনেগার। ইনস্টাগ্রামের পাতায় নিজের পেশিবহুল শরীরে জিম করার ছবি দিয়ে তিনি লিখলেন— ‘‘দিস ইজ ৭৯’’। অর্থাৎ একে বলে ৭৯।
৮০ তো দূর ওই বয়সে পৌঁছনের বছর কুড়ি আগে থেকেই কোমর-পিঠ-হাঁটুর ব্যথায় স্বাভাবিক চলাফেরার শক্তি হারান বহু মানুষ। তবে এককালের হলিউডের ‘অ্যাকশন হিরো’ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাক্তন গভর্নর আর্নল্ড সেই শ্রেণিতে পড়েন না। ৭৯ বছরের শরীরটিকে নিয়ে দিব্যি কসরৎ করেন তিনি। যেমনটি দেখা গিয়েছে, তাঁর সমাজমাধ্যমের ছবিতে— জিমের মেশিনে বসে বাইসেপ কার্ল করছেন আর্নল্ড।
আশি বছরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে অভিনেতার ওই শারীরিক ক্ষমতা ও ফিটনেসের প্রতি নিষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভক্তেরা। সেইসঙ্গে এ প্রশ্নও করেছেন অনেকে যে, কোন ম্যাজিকে এ বয়সেও এমন শক্তসমর্থ ৮০ ছুঁইছুঁই হলিউডের নায়ক?
বাইসেপস কার্ল করছেন আর্নল্ড। তার ভিডিয়ো দিয়েই অভিনেতা লিখেছেন, একে বলে ৭৯! ছবি: আর্নল্ড শোয়ার্ৎজ়েনেগারের ইনস্টাগ্রাম ভিডিয়ো থেকে।
প্রথমেই নজর দেওয়া যাক অভিনেতার শারীরচর্চায়। আর্নল্ড যে ব্যায়ামটি করছিলেন, তাকে বলে ‘প্রিচার কার্ল’ । স্বাস্থ্য ও ফিটনেস প্রশিক্ষকেদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত ভাল আইসোলেশন এক্সারসাইজ। যা শরীরের ব্যালান্স বা ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুব কার্যকর।
আইসোলেশন এক্সারসাইজ় কী?
বয়স বাড়লে এবং পেশি দুর্বল হলে শরীরের ভারসাম্য রাখার ক্ষমতা কমে। যে কারণে বেশি বয়সে পড়ে যাওয়ার প্রবণতা বা ঝুঁকি বাড়ে। এবং তা থেকে শরীরের নানা অঙ্গে চোট লেগে আরও ভেঙে পড়ে শরীর। শারীরিক ভারসাম্যের ক্ষমতাবৃদ্ধি তাই বয়সকালে শরীর ভাল রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। আইসোলেশন এক্সারসাইজ় সে কাজে সাহায্য করে। এই ধরনের শারীরচর্চায় শরীরের অন্য পেশিকে নিশ্চল করে শুধুমাত্র একটি অস্থিসন্ধি এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি পেশিকে ব্যবহার করে শারীরচর্চা করা হয়।
কী কী ধরনের আইসোলেশন এক্সারসাইজ় হতে পারে?
বাইসেপ কার্ল, লেগ এক্সটেনশন, ল্যাটারাল রেইজ়, ট্রাইসেপ পুশডাউনের মতো এক্সারসাইজ়কে বলা হয় আইসোলেশন এক্সারসাইজ়। এই ধরনের শারীরচর্চা করতে কখনও সখনও জিমের বিভিন্ন ফিটনেস মেশিনের ব্যবহার করা হয়। আবার কোনও কোনওটি ডাম্বেল, কেবল রোপ বা নির্দিষ্ট উচ্চতার শক্তপোক্ত বসার জায়গা ব্যবহার করেও করা যায়।
অল্পবয়সি আর্নল্ড শোয়ার্ৎজ়েনেগার। ছবি: সংগৃহীত।
আরও যে সমস্ত বিষয় বার্ধক্যে শরীর সুস্থসবল রাখলে সাহায্য করে—
১। ফ্লেক্সিবিলিটি ও ব্যালেন্স: শরীরে সচল ভাব বৃদ্ধি করতে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার মতো সমস্যা থেকে বাঁচতে ফ্লেক্সিবিলিটি ও ভারসাম্যের ব্যায়াম জরুরি।
২। কার্ডিও এক্সারসাইজ: হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটার মতো ব্যায়াম যা হার্ট ও ফুসফুস ভাল রাখে, ওই দুই প্রত্যঙ্গের কাজ করার ক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে সেসবও করা যেতে পারে।
৩। সঠিক পুষ্টি: বয়স বাড়লে খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ফাইবার এবং শাকসব্জি রাখা উচিত, যা পেশি ও হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
৪। ঘুম ও জীবনযাত্রা: পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো জরুরি। তাতে শরীরের পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনের জোগান দিয়ে শরীরকে ভাল রাখা যাবে।
অবশ্য, আর্নল্ডের জিম সেশন অন্য আর একটি শিক্ষা দেয়। অনেকেই মনে করেন বার্ধ্য দূরে রাখা মানে যৌবন ধরে রাখা। কিন্তু মুখে হাজার বলিরেখা নিয়েও যে ভাবে শারীরচর্চার মাধ্যমে নিজের চলাফেরার শক্তি বজায় রেখেছেন আর্নল্ড, তা সত্যিকারের ‘হেলদি এজিং’ কী, তা বুঝিয়ে দেয়।