গলার ক্যানসার থেকে হৃদ্যন্ত্রের জটিল রোগ। দু’টি কঠিন যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন পরিচালক-অভিনেতা রাকেশ রোশন। এক দিকে যেমন গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে যুঝেছেন, অন্য দিকে নিজেকে এমন ফিট রেখেছেন যে নজির গড়ে তুলেছেন তিনি। তা-ও আবার ৭৬ বছর বয়সে। কে বলবে এত যুদ্ধ, এত লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে! সম্প্রতি কন্যা সুনয়না রোশনের সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ পেয়েছে তাঁর। সেখানেই নিজের ফিটনেস নিয়ে কথা বললেন হৃতিক রোশনের বাবা।
বয়স বাড়লেই শরীর ভেঙে পড়বে, এই ধারণাকে বার বার ভুল প্রমাণ করছেন রাকেশ। ৭৬ বছর বয়সেও তাঁর নিয়মিত শারীরচর্চা, কর্মক্ষমতা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন অনেককেই অনুপ্রাণিত করে। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের যত্ন আরও বেশি নেওয়া প্রয়োজন। আর সেই কারণেই তিনি আজও নিয়ম করে ব্যায়াম করেন এবং খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কোনও আপস করেন না। তাঁর কথায়, ‘‘আমি এমন অনেক ৬৫-৭০ বছর বয়সি লোকজনকে দেখেছি, যাঁদের কাঁধ ঝুঁকে গিয়েছে, পেট বেরিয়ে এসেছে।’’
স্বাস্থ্য়ের যত্নে রাকেশ। ছবি: সংগৃহীত
তবে রাকেশের মতে, শারীরচর্চার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মতে, ফিটনেসের যাত্রায় শারীরচর্চা কেবল ১০ শতাংশই সাহায্য করে। বাকি ৯০ শতাংশ কেবলই খাওয়াদাওয়ার উপর নির্ভর করে। গত তিন বছর ধরে আমি এ ভাবেই নিজেকে ফিট রেখেছি। এর ফলে শরীরে প্রচুর বদল এসেছে আমার। ঘুম ভাল হয়, সকালে উঠে ক্লান্ত লাগে না। এটাই এখন আমার রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’
কোনও দিনই শারীরচর্চা বাদ দেন না রাকেশ। কখনও আলস্য এলেও তিনি নিজেকে জোর করে জিমে নিয়ে যান। তাঁর মতে, শুরু করাটাই সবচেয়ে কঠিন। এক বার ব্যায়াম শুরু হয়ে গেলে শরীর নিজেই ছন্দে ফিরে আসে। তাই ইচ্ছা না করলেও, জিমে পৌঁছোনোটা খুব দরকার। তাঁর কথায়, ‘‘রোজ যে ভাবে সকাল, দুপুর এবং রাতে খাবার খাই, সে ভাবেই শারীরচর্চাকেও রোজের নিয়মে নিয়ে আসতে হবে। আর সেটা না করলে নানা রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’’ তাঁর মতে, ফিট থাকলে নিজেকে সুস্থ রাখাটাও সহজ হয়। জীবনটাও সহজ বলে মনে হয় তখন।
আরও পড়ুন:
ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া, তার চিকিৎসা করানো, এই সমস্ত অভিজ্ঞতার পর থেকেই স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি আরও বেশি সচেতন হয়েছেন। নিয়মিত শারীরচর্চা, পরিমিত ও সুষম খাবার এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনকে নিজের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ করে তুলেছেন রাকেশ।