৬৮ বছর বয়সে এসেও সনী দেওলের ফিটনেস দেখে ঈর্ষান্বিত হতে পারেন এ যুগের নায়কেরা। ৯০-এর দশকে যাঁর ‘ঢাই কিলো কা হাত’কে ভয় পেত খলনায়কেরা, তিন দশক পেরিয়েও সেই সনীর সুঠাম গড়ন, সুদৃঢ় পেশিযুক্ত চেহারা নজর কাড়ে। ‘দামিনী’ ছবিতে তাঁর ‘আড়াই কেজি ওজনের’ হাতের সংলাপ আজও ভোলেননি দর্শকেরা। সম্প্রতি ‘বঁটোয়ারা ১৯৪৭’ ছবির প্রচারে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তাঁর সুস্থ থাকার চাবিকাঠি প্রকাশ করলেন অভিনেতা।
ছবির প্রচারে সনী। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালোরি গুনে খাওয়া, রোজ ওজন মাপা, কিছু খাওয়ার আগে বার বার ভাবা— এ সব অভ্যাস নেই সনীর। বরং নিজের সন্তানদের সনী বলেন, ‘‘তোমাদের বয়সে আমরা অনেক খেতাম। তোমরা কিছুই খাও না।’’ আর তাই সামনে কেউ শিঙাড়া বা ঘি মাখানো পরোটা এনে দিলে ফেরাতে পারেন না সনী। এগুলো বড়ই প্রিয় তাঁর।
দেশি খাবারেই সাজানো তাঁর ডায়েট এবং প্রায়ই ভাজাভুজি খেয়ে ফেলেন। তার পরেও এত ফিট কী করে তিনি? শারীরচর্চার প্রতি আগ্রহই তাঁর সুস্থতার রহস্য। ৭০-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রোজ সকালে ১-২ ঘণ্টা টানা ঘাম ঝরান তিনি। তা ছাড়া সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ এখানে। সনীর কথায়, ‘‘সূর্যোদয় হওয়ার আগে, সাড়ে ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠি আমি। এটা এখন আমার স্বাভাবিক ছন্দ। উঠেই ১-২ ঘণ্টা ব্যায়াম করি। তাতে সারা দিন অ্যাড্রিনালিন হরমোন ক্ষরণ হয়। গায়ে জোর পাই।’’ কোনও প্রশিক্ষক ছাড়াই কার্ডিয়ো এবং শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করেন সনী। পেশি তৈরির জন্য আলাদা করে কসরত করেন না। সনী বলছেন, ‘‘শারীরচর্চা করে আনন্দ পাই, তাই করি। নিজেকে সুস্থ মনে হয় এতে। তাই ১-২ ঘণ্টা ঘাম ঝরাই।’’
যেখানে বয়স বাড়লে অনেকেই শারীরচর্চা কমিয়ে দেন, সেখানে সনী ব্যতিক্রমী। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি কমতে শুরু করতে পারে। শরীরের কর্মক্ষমতা, ভারসাম্য এবং নমনীয়তা আগের মতো না-ও থাকতে পারে। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরচর্চা বন্ধ করার বদলে বরং নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী তা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। সনীর রুটিন থেকে এটিই শেখার। তাঁর কাছে শারীরচর্চা শুধু চেহারা ঠিক রাখার উপায় নয়, বরং কর্মক্ষম থাকার অভ্যাস। প্রতি দিন দীর্ঘ সময় শারীরচর্চা করা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু নিয়মিত হাঁটা, পেশি মজবুত করার ব্যায়াম, শরীর টানটান রাখার অনুশীলন— এ সব রোজের রুটিনে রাখা যায়।