৪০ বছর বয়সেও ছিপছিপে অথচ পেশিবহুল শরীর ধরে রাখার ক্ষেত্রে শুধু জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটালেই চলে না। খাবারের সঠিক ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই খাদ্যতালিকায় যে কেবল প্রোটিনই মুখ্যচরিত্রে, এমন নয়। থাকতে পারে কার্বোহাইড্রেটও। আর তার উদাহরণ? দক্ষিণী সুপাস্টার যশ। ‘টক্সিক’ ছবিমুক্তির পর তাঁর ফিট চেহারার দিকে ফের নজর গেল অনুরাগীদের। প্রশ্ন জাগছে, কী ভাবে সিক্স প্যাক বজায় রাখেন তিনি?
সিক্স প্যাক অ্যাব্স দেখলেই মনে হয়, বুঝি কার্বোহাইড্রেট একেবারেই বাদ দিতে হয়! অথচ অভিনেতা যশের খাবারের তালিকা সেই ধারণাটাই বদলে দেয়। ‘টক্সিক’ নায়কের খাদ্যতালিকায় যেমন রয়েছে ডিমের সাদা অংশ, মাছ ও প্রোটিন শেক, তেমনই রয়েছে পাউরুটি, কলা ও অন্যান্য ফল। অর্থাৎ পেশি তৈরি করতে গিয়ে কার্বোহাইড্রেটকে শত্রু ভাবার প্রয়োজন নেই।
কী ভাবে সিক্স প্যাক বজায় রাখেন যশ? ছবি: সংগৃহীত
অভিনেতার খাদ্যাভ্যাসের ছবিটা কেমন?
প্রাতরাশে একাধিক পুষ্টিকর উপাদান
যাকে বলে পরিপূর্ণ প্রাতরাশ! সকালে যশের খাওয়ার থালায় ৮টি ডিমের সাদা অংশ, ৫টি ব্রাউন ব্রেড, সব্জি এবং তরমুজ ও পেঁপের মতো ফল থাকে বলে জানা গিয়েছে নানা রিপোর্টে। তা ছাড়া জায়ফল ও বাদামও খান যশ। সকাল ১১টায় প্রোটিন শেক খান তিনি। ফলে সকাল সকাল একসঙ্গে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন ও নানাবিধ খনিজ পায় শরীর। ডিমের সাদা অংশ থেকে যথেষ্ট প্রোটিন পাওয়া যায়, যা শারীরচর্চার পরে পেশি মেরামত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্য দিকে, পাউরুটি ও ফল শরীরকে কার্বোহাইড্রেট দেয়, যা দিনভর প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দিতে পারে।
অবশ্যই প্রোটিনকে বিশেষ গুরুত্ব
শারীরচর্চা করলে পেশির উপর চাপ পড়ে। সেই পেশিকে মেরামত ও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়ায় প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করলে খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকা দরকার। যশের ডায়েটেও দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রোটিনের উৎস রয়েছে, যেমন— ডিমের সাদা অংশ, মাছ এবং প্রোটিন শেক। এক বারে প্রচুর প্রোটিন খাওয়ার বদলে দিনের বিভিন্ন খাবারে ভাগ করে খান তিনি। মাছ নাকি যশের বিশেষ প্রিয় খাবার। তাই দিনের যে কোনও এক বেলায় মাছের কোনও পদ চাই-ই চাই। তা থেকেও প্রোটিনের চাহিদা মিটে যায় যশের। পাশাপাশি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও পাওয়া যায়।
কার্বোহাইড্রেটকেও বিশেষ গুরুত্ব
কার্বোহাইড্রেট একা শরীরে মেদ তৈরি করে না। সামগ্রিক ভাবে কত ক্যালোরি খাবার খাচ্ছেন, খাবারের মান কেমন, শারীরচর্চা করছেন কি না, সব মিলিয়েই ওজন বাড়ে বা মেদ জমে। এর দায় আলাদা করে কার্বোহাইড্রেটের নয়। আসলে শরীর কার্বোহাইড্রেটকে গ্লাইকোজেন হিসেবে পেশি ও লিভারে জমিয়ে রাখে। বেশি পরিশ্রমের সময়ে এই সঞ্চিত গ্লাইকোজেন শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই শারীরচর্চার ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট খেলে শক্তি পাওয়া যায়। মেদহীন, পেশিবহুল শরীর তৈরিতে প্রকৃতই সাহায্য করে সেটি।