দাঁতের মর্ম এ বার দাঁত নিজেই বুঝে নেবে। দাঁত নিয়ে আর ভাবার প্রয়োজন নেই। বয়সকালে নড়বড়ে দাঁত তুলে কৃত্রিম দাঁতের পাটি বসানোরও আর দরকার পড়বে না। নিজের মুক্তোর মতো বত্রিশ পাটি দাঁত নিয়েই হাসবেন বয়সকালেও। সে ব্যবস্থাই করে ফেলেছেন গবেষকেরা। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর স্টেম সেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিনের গবেষকেরা এমন ওষুধ তৈরি করছেন, যা দিয়ে দাঁত গজাবে প্রাকৃতিক ভাবেই। ক্ষয়ে যাওয়া এনামেলও তৈরি হবে নতুন করে। ক্ষত মেরামত হবে নিজে থেকেই।
গবেষকেরা বলছেন, দাঁত তোলা বড় ঝক্কির। বেশির ভাগ মানুষই দাঁত তুলতে যেতে ভয় পান। কৃত্রিম দাঁত বসানোও যথেষ্টই ঝামেলার। সেটির যত্নও নিতে হয় পরিপাটি করে। আর দাঁতে যন্ত্রণা হলে তো কথাই নেই। সে ব্যথা সহজে সারে না। এই সমস্যারই সমাধান হতে পারে নতুন ওষুধে।
কোন ওষুধে নতুন দাঁত গজাবে?
গবেষকেরা যে ওষুধ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন, তা হল রিজেনারেটিভ মেডিসিন। এটি এমন এক প্রকার থেরাপি, যা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করা হয়, কোষের পুনর্গঠনও সম্ভব। স্টেম কোষ দিয়ে এই থেরাপি করা হয় বেশির ভাগ সময়ে। তা ছাড়া, জিন থেরাপির কিছু অংশও এর মধ্যে পড়ে। সচল ও সক্রিয় জিন দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জিন মেরামত করা যায় এই থেরাপিতে।
আরও পড়ুন:
রিজেনারেটিভ থেরাপিকে এক বিশেষ উপায়ে কাজে লাগাচ্ছেন গবেষকেরা। দাঁতের ক্ষতিগ্রস্ত এনামেলের পুনর্গঠনের জন্য এর প্রয়োগ করা হচ্ছে। দাঁতের উপরিভাগের শক্ত সাদা আবরণকে বলা হয় এনামেল। এটি মানবশরীরের সবচেয়ে শক্ত পদার্থ হলেও, এক বার ক্ষয় শুরু হয়ে গেলে এটি আর প্রাকৃতিক উপায়ে ফিরে আসে না। দাঁতে এনামেল যে কোষ তৈরি করে তার নাম ‘অ্যামেলোব্লাস্ট’। এই কোষের ক্ষয় হতে থাকলে এনামেলও নষ্ট হতে থাকে। খাদ্যাভ্যাস, তামাকজাত দ্রব্য অত্যধিক সেবনের কারণে এনামেলের ক্ষয় বেশি হয়। আবার বয়সজনিত কারণেও এনামেলের ক্ষয় হতে থাকে।
গবেষকেরা স্টেম কোষকে বিশেষ উপায়ে পরিবর্তিত করে এই কোষে রূপান্তরিত করছেন। শুধু তা-ই নয়, স্টেম কোষ থেকে বিশেষ উপায়ে কৃত্রিম অঙ্গাণু তৈরি করা হচ্ছে যা নিজে থেকেই নতুন দাঁত তৈরি করতে পারে। এমনকি, ক্ষয়ে যাওয়া দাঁতের পুনর্গঠনও করতে পারে। তবে গবেষণাটি এখনও পরীক্ষার স্তরেই রয়েছে। বহু জনের উপর পরীক্ষার পরেই সেটির প্রয়োগ করা যেতে পারে বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।