সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে তাপসী পন্নু অভিনীত ‘গান্ধারী’। ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অভিনেত্রীকে যেমন অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়েছে, তেমনই রাতের পর রাত জেগে শুটিং করতে হয়েছে। কখনও সেই সময় ১২ ঘণ্টাও পেরিয়ে গিয়েছে।
রাতে ঘুম নেই, প্রবল পরিশ্রম, একের পর এক অ্যাকশন দৃশ্য করে যাওয়া মুখের কথা নয়। এই সময়ে তাপসী পন্নুকে সঠিক ডায়েটে সুস্থ রাখার দায়িত্ব যাঁর কাঁধে ছিল তিনি হলেন পুষ্টিবিদ মুনমুন গানেরীবাল। সিনেমার চরিত্রের জন্য কী ভাবে তিনি খাদ্যতালিকা সাজিয়েছিলেন, কোন শারীরচর্চা করতেন অভিনেত্রী, জানালেন মুনমুন।
চরিত্রের প্রয়োজনে দৈহিক বদলও আনতে হয়েছিল তাপসীকে। কারণ, নারীকেন্দ্রিক এই ছবির কেন্দ্রবিন্দুই ছিলেন তিনি। দৃষ্টিশক্তিহীন এক জন মা সন্তানকে উদ্ধারের জন্য নারী পাচারকারী দলের সঙ্গে লড়ছেন, এটাই গল্পের মুখ্য অংশ। সেই চরিত্রের জন্য মানানসই চেহারার পাশাপাশি, অ্যাকশন দৃশ্যের প্রশিক্ষণও নিতে হয়েছিল তাঁকে। তেমনই লম্বা সময় ধরে শুটিংয়ের ধকল চালিয়ে যাওয়ার জন্য শরীরকেও প্রস্তুত করতে হয়েছিল। পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, দিনে কাজ এবং রাতে ঘুমোনোর বিষয়টি স্বাভাবিক। ঘুমের সময়ে শরীর যেমন বিশ্রাম পায়, তেমনই কোষের পুনরুজ্জীবন হয়। পেশির ক্লান্তি লাঘবের সময় থাকে। কিন্তু ঘুমের সময়ে ঘুম না হলে, শরীরে তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাপসীকে টানা কয়েকটি দিন রাতে শুটিং করে যেতে হয়েছে। ফলে, তাঁর কাছেও তাপসীকে সুস্থ রাখাটা একপ্রকার চ্যালেঞ্জই ছিল।
তাপসীর ব্যস্ততা, শুটিং, ঘুম অনুযায়ী খাদ্যতালিকা সাজিয়েছিলেন তারকা-পুষ্টিবিদ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজের জন্য প্রয়োজন শক্তির। তাই শুধু প্রোটিন নয়, অভিনেত্রীর ডায়েটে তিনি রেখেছিলেন কার্বোহাইড্রেট। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের জোগান দেওয়ার পাশাপাশি ছিল পর্যাপ্ত পানীয় এবং সাপ্লিমেন্টও। তাপসীর ঘুমোতে যাওয়া, ঘুম থেকে ওঠা, শারীরচর্চার সময়ের ফাঁকে কখন, কোনটি খাওয়া দরকার, বুঝে তালিকা তৈরি করেছিলেন তিনি।
প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পাতে থাকত মাছ, মুরগির বুকের অংশ (এতে ফ্যাট কম) এবং ডিম। উদ্ভিজ্জ
প্রোটিন, ফাইবারের মাত্রা ঠিক রাখতে বিভিন্ন উপায়ে মুগডাল জোড়া হয়েছিল তাপসীর ডায়েটে। থাকত মুগডাল স্যুপ, চিলা, ধোকলা। কার্বোহাইড্রেটের জোগান দিতে তাপসীর খাবার তালিকায় ভাত এবং মিলেটও ছিল। আর ছিল চিনেবাদাম। বাদাম শুধু প্রোটিন নয়, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের অন্যতম উৎস।
সুস্থ থাকতে হলে, শুধু প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেটের সমন্বয় যথেষ্ট নয়। দরকার পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখাও। না হলে পুষ্টি শোষণে সমস্যা হতে পারে। শরীরে জলের জোগান ঠিক রাখতে আদা-হলুদ ফোটানো ভেষজ চা-ও তাপসীর দৈনন্দিন খাবার তালিকায় রেখেছিলেন তিনি। পুষ্টিবিদ জানিয়েছেন, তিন দিন ওজন নিয়ে শারীরচর্চা করতেন তাপসী, বাকি দিনগুলির জন্য থাকত এরিয়্যাল যোগ এবং খেলা।
নিয়ম মেনেই খাওয়াদাওয়া এবং শারীরচর্চা চালিয়ে গিয়েছন তাপসী। লম্বা সময়ে কাজ করার ধকল সামলে ভিটামিন, খনিজ-সহ একাধিক সাপ্লিমেন্টও খেয়েছিলেন অভিনেত্রী। কড়া ডায়েট নয়, বরং সাধারণ খাওয়া, নিয়ম মেনে শারীরচর্চা এবং ঘুমেই মিলেছে সাফল্য।