Advertisement
E-Paper

মাঠে দুরন্ত গতি, ক্লান্তই হন না, ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ফুটবল তারকা হ্যারি কেনের ফিটনেসের রহস্য কী?

৩৩ বছরে ব্যালন ডি’অর জয়। বিশ্ব ফুটবলে রেকর্ড করেছেন তারকা ফুটবলার হ্যারি কেন। মাঠে তাঁর এমন দুরন্ত গতির রহস্য কী?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৬
How the 33-Year-Old Ballon d’Or Winner Maintains His Speed and Stamina

ব্যালন ডি’অর জয়ী হ্যারি কেনের ফিটনেসের রহস্য কী? ছবি: সংগৃহীত।

ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েছেন ইংরেজ ফুটবলার। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এবং সবচেয়ে ধারাবাহিক স্ট্রাইকারদের একজন হ্যারি কেন। ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা ফুটবলারের দুরন্ত গতি তাক লাগিয়ে দেয়। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে পাঁচশোর বেশি গোলের মালিক হ্যারি কেন ৩৩ বছর বয়সে এসেও রেকর্ড গড়েছেন। তাঁর দক্ষতা ও গতিই এখন আলোচনার বিষয়। সাধারণত ফুটবলারদের ক্ষেত্রে ত্রিশের কোঠা পেরোলেই গতি কমতে শুরু করে বলে ধারণা আছে। হ্যারি তা মিথ্যা প্রমাণ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর ফিটনেসের রহস্য হল নিয়ম মেনে শারীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং জীবনযাত্রায় সংযম। সুস্থ থাকতে কয়েকটি নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন ফুটবলার।

পরিশ্রম ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য

কেন মনে করেন যে, অতিরিক্ত পরিশ্রম করার চেয়ে নিজের শারীরিক সক্ষমতা কতটা, তা বুঝে নেওয়া জরুরি। পর পর যখন খেলা থাকে, তখন ব্যায়াম ছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু থেরাপি তিনি করার। পাশাপাশি স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও হাই-ইন্টেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিংয়েও থাকেন। আবার যখন শরীর ক্লান্ত থাকে, তখন কোনও ব্যায়াম বা ট্রেনিং করেন না। শুধুই বিশ্রাম নেন। হ্যারি কেনের পরামর্শ, একজন খেলোয়াড়কে তাঁর নিজের শরীর বুঝতে হবে আগে। কখন শারীরচর্চা জরুরি আর কখন বিশ্রাম, এই ভারসাম্যের বোধ এবং তা নিজের জীবনে প্রয়োগের প্রবণতা বজায় থাকলেই শরীরের শক্তি অটুট থাকবে। বয়স যতই হোক না কেন,পেশির জোর কমবে না।

মাঠে দুরন্ত গতি, কী ভাবে ফিট থাকেন হ্যারি কেন?

মাঠে দুরন্ত গতি, কী ভাবে ফিট থাকেন হ্যারি কেন?

স্ট্রেংথ ট্রেনিং

হ্যারি কেনের সাপ্তাহিক ওয়ার্কআউট রুটিন বেশ বৈচিত্রময় এবং সুপরিকল্পিত। কোন দিন কী ব্যায়াম করবেন, তার তালিকা আগে থেকেই তৈরি থাকে।

সপ্তাহের শুরুতে হাই-স্পিড রানিং এবং লোয়ার-বডি জিম সেশন করেন। স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও কার্ডিয়ো সপ্তাহের শুরুতেই সেরে নেন। শরীরের নিম্নাংশের পেশির জোর বৃদ্ধি করার স্ট্রেচিংও সপ্তাহের গোড়াতেই করেন।

সপ্তাহের মাঝমাঝি আপার-বডি জিম সেশন থাকে তাঁর। ওই দিন পুশ-আপ, পুল-আপ, ওভারহেড প্রেস, ডাম্বেল রো, চেস্ট প্রেসের মতো শক্তিবর্ধক ব্যায়ামগুলি করেন।

ম্যাচের আগের দিনগুলিতে কোনও ভারী ব্যায়াম করেন না। ওই সময়ে হালকা শারীরচর্চা ও নানা রকম স্ট্রেচিং করেন। হাত ও পায়ের পেশির আড়ষ্টতা দূর করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু স্ট্রেচিং হ্যারি কেনকে অভ্যাস করান তাঁর প্রশিক্ষক।

শারীরচর্চা করেন নিয়ম মেনে।

শারীরচর্চা করেন নিয়ম মেনে।

ঘুম ও বরফজলের ম্যাজিক

শরীর সুস্থ রাখার দাওয়াই হল ঘুম, এমনটাই মনে করেন ফুটবলার। তাই ব্যস্ততা যতই থাক, ঘুমের সঙ্গে আপস করেন না একেবারেই। কেনের মতে, ঘুমোলেই কোষের পুনর্গঠন হয়, শরীরের ডিটক্সও ঘটে। শরীর বুড়িয়ে যায় না।

পেশির ক্লান্তি ও প্রদাহ কমাতে সপ্তাহের কিছু নির্দিষ্ট দিনে আইস বাথও নেন ফুটবলার। এতে দুর্বলতা কাটে বলে দাবিও করেছেন তিনি।

ইলেকট্রিক্যাল নিউরোফাংশনাল আকুপাংচার

হ্যারি কেনের ফিটনেসের আরও একটি দিক হল নিউরোফাংশনাল থেরাপি। গত ৬ বছর ধরে এই থেরাপি করাচ্ছেন তিনি। স্নায়ুতন্ত্রকে সজীব রাখতেই এই থেরাপি করা হয়। এতে প্রথাগত আকুপাংচারের মতো শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় (প্রেসার পয়েন্ট) খুব সূক্ষ্ম সুচ প্রবেশ করানো হয়। সেই সঙ্গেই মৃদু বৈদ্যুতিক প্রবাহ চালনা করা হয় শরীরে। এই থেরাপি সরাসরি পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম, পেশি এবং সুষুম্নাকাণ্ড বা স্পাইনাল কর্ডকে উদ্দীপিত করে। এই থেরাপির উদ্দেশ্য হল স্নায়ুর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ফুটবলারদের পর পর ম্যাচ খেলতে হয়। এতে পেশি ও স্নায়ুর উপর মারাত্মক চাপ পড়ে। এই থেরাপি করালে সে ধকল কেটে যায়। মনের জোরও বাড়ে।

Harry Kane Fitness Tips exercise tips

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy