মরসুম বদলের সময়ে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। ইদানীং ডেঙ্গি নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তবে ম্যালেরিয়ার প্রকোপও কিছু কম নয়। ভারত, আফ্রিকা ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বরাবরই বেশি। যদিও এখন ম্যালেরিয়া নির্মূল করার মতো ওষুধ বা টিকা চলে এসেছে। নতুন প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণাও চলছে। ম্যালেরিয়া থেকে যদি বাঁচতে হয়, তা হলে টিকা নিয়ে রাখা জরুরি। এমন টিকা এ দেশেও আছে। ম্যালেরিয়া ঠেকাতে পারে, সে সব টিকা কেমন, তার ডোজ়ই বা কেমন, কোন বয়সে নেওয়া জরুরি— রইল খুঁটিনাটির খোঁজ।
আর২১/ ম্যাট্রিক্স-এম টিকা
ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় টিকাটি তৈরি করেছে। বর্তমানে ভারতের প্রতিষেধক নির্মাতা সংস্থা পুণের সিরাম ইস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়াও টিকাটি বিপুল হারে উৎপাদন করছে দেশে। এই টিকার কাজ হল ম্যালেরিয়ার পরজীবী প্লাজ়মোডিয়াম ফ্যালসিপেরামের বংশবিস্তার ও বিভাজন রুখে দেওয়া। টিকাটি নিলে শরীরে রোগপ্রতিরোধ শক্তি বাড়ে, ম্যালেরিয়ার পরজীবীকে ঠেকানোর মতো অ্যান্টিবডিও তৈরি হয় শরীরে।
কোন বয়সে দেওয়া হয়: ম্যালেরিয়ার উপদ্রব বেশি, এমন এলাকায় শিশুদের এই টিকা দিয়ে রাখা ভাল। সাধারণত ৫ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের এই টিকা দেওয়া যায়।
ডোজ় ও খরচ: এই টিকার ক্ষেত্রে মোট ৪টি ডোজ় দেওয়া হয়। প্রথম ৩টি নির্দিষ্ট ব্যবধানে প্রাইমারি ডোজ় হিসেবে দেওয়া হয় (সাধারণত ৪ সপ্তাহের ব্যবধানে) এবং এর ঠিক এক বছর পর সময়ান্তরে একটি বুস্টার ডোজ় নিতে হয়। ডোজ় প্রতি আনুমানিক খরচ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।
আরও পড়ুন:
আরটিএস, এস টিকা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) অনুমোদিত টিকাটি এখন বিশ্বের নানা জায়গায় প্রয়োগ করা হচ্ছে। এটি লিভারে ম্যালেরিয়ার পরজীবী প্রবেশের মুখে বাধা সৃষ্টি করে এবং রক্তে প্রবেশ করার আগেই তাদের ধ্বংস করতে পারে বলে দাবি করা হয়। টিকাটির নাম ‘মসকুইরিক্স’ (আরটিএস,এস ভ্যাকসিন)। এটি তৈরি করেছে ব্রিটিশ ওষুধ নির্মাতা সংস্থা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন। ইউরোপিয়ান ড্রাগ রেগুলেটরের অনুমোদন পাওয়ার পরে টিকাটি বিশ্বের নানা দেশেই পাওয়া যায়। নির্মাতা সংস্থা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ দেশে ভারত বায়োটেক প্রতিষেধকটি তৈরি করছে।
কোন বয়সে দেওয়া হয়: ৫ থেকে ১৭ মাসের শিশুদের উপরে এই প্রতিষেধক সবচেয়ে বেশি কার্যকর। নির্মাতাদের দাবি, শিশুদের ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচাতেই মসকুইরিক্স প্রতিষেধকটি বিশেষ ভাবে তৈরি হয়েছে।
ডোজ় ও খরচ: এই টিকারও চারটি ডোজ় রয়েছে। ১ মাসের ব্যবধানে তিনটি ডোজ় নিতে হয়। এর ১২ থেকে ১৮ মাস পরে বুস্টার ডোজ়টি নিতে হয়।
টিকা ছাড়াও ম্যালেরিয়ার ওষুধও আসতে চলেছে। ওষুধের নাম ‘গ্যানলাম’। আমেরিকার জন্স হপকিনস ইউনিভার্সিটির গবেষকেরাও ওষুধটি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন। সাধারণত ম্যালেরিয়ায় জ্বর কমানোর জন্য ক্লোরোকুইন দেওয়া হয় রোগীকে। সেটি খাওয়ার পরে আরও একটি ওষুধ দেওয়া হয় যা শরীর থেকে জীবাণু নির্মূল করতে পারে। সেই সপ্তাহ দুয়েক ধরে খেয়ে যেতে হয়। নতুন ওষুধটিতে সে ঝামেলা নেই বলেই জানিয়েছেন গবেষকেরা। ওষুধটি পুরিয়ার মতো পাউডারে পাওয়া যাবে। সেটি খেলেই নাকি জীবাণু সম্পূর্ণ ভাবে নির্মূল হবে।