অনলাইনে রকমারি হালফ্যাশনের পোশাক দেখেই হাত নিশপিশ! অ্যাপের উইশলিস্টে জামাগুলি রাখছেন বটে, তবে কেনার সাহস হচ্ছে না! বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে আপনার মধ্যপ্রদেশ। রোজের জীবনে নানা অনিয়মের ফলে কেবল পেটেই নয়, মেদ জমতে শুরু করেছে শরীরের আনাচ-কানাচে। তবে কথায় আছে, ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। পুজো আসতে এখনও বাকি ঠিক এক মাস। পুজোর আগে বেশ খানিকটা ওজন ঝরানোর কথা ভাবছেন? ঠিক কেমন ডায়েট মেনে চললে ওজনও কমবে অথচ শরীরের কোনও ক্ষতিও হবে না, তার হদিস দিলেন পুষ্টিবিদেরা।
জীবনযাপনে কিছু স্বাস্থ্যকর বদল এনে, নিয়ম মেনে ডায়েট করে আর অল্প শরীরচর্চা করলে এক মাসে তিন-চার কেজি ওজন ঝরানো অসম্ভব নয়। এমনই মত পুষ্টিবিদ পম্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আনন্দবাজার ডট কমকে তিনি বললেন, ‘‘একেবারে ক্র্যাশ ডায়েট করার পরামর্শ আমি কখনওই দিই না। ডায়েট থেকে কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দিয়ে কিংবা তরল-নির্ভর ডায়েট করে ওজন কমানো মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। এই সব ডায়েট করে দ্রুত ওজন ঝরে ঠিকই, কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক। কার ডায়েট কেমন হবে, গোটা বিষয়টি বড্ড বেশি ব্যক্তিনির্ভর। কার ওজন কত, রোগীর কোনও শারীরিক অসুবিধা আছে কি না— এই সব বিষয় খতিয়ে দেখে তবেই আমরা ডায়েট চার্ট বানিয়ে দিই রোগীকে। তবে কোনও ক্রনিক অসুখ নেই, এমন কেউ যদি মাসে চার থেকে পাঁচ কেজি ওজন কমাতে চান, তাঁর জন্য একটি ডায়েট চার্ট বানিয়ে দেওয়া যায়।’’
৩-৪ কেজি ওজন ঝরাতে হলে কেমন হবে রোজের ডায়েট, জানালেন পম্পিতা।
সকাল ৬টা: অর্ধেক লেবু ও আধ চামচ মধু মিশিয়ে ১ গ্লাস ঈষদুষ্ণ জল।
সাড়ে ৬টা: ছোট বাটিতে অঙ্কুরিত ছোলা, মুগ।
সকাল ৮টা: দু'টি ছোট মাপের রুটি, সব্জি, একটি সেদ্ধ ডিম অথবা ৪ চামচ ওটস, ১৫০ মিলি দুধ, একটি ফল ও দু'টি খেজুর দিয়ে বানানো স্মুদি অথবা দু'স্লাইস ব্রাউন ব্রেড দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ অথবা ছোট বাটির চিঁড়ের পোলাওয়ের সঙ্গে একটি সেদ্ধ ডিম।
বেলা ১১টা: একটি গোটা ফল (আপেল, পেয়ারা, মুসাম্বি)।
দুপুর ১টা: একটি রুটি কিংবা এক কাপ ভাতের সঙ্গে এক বাটি সব্জি। সঙ্গে রাখতে পারেন ৫০ থেকে ৭০ গ্রাম মাছ কিংবা মুরগির মাংস আর এক বাটি স্যালাড।
দুপুর ১.৩০ মিনিট: এক কাপ দই।
বিকেল ৫টা: ছোলার সঙ্গে শুকনো খোলায় ভাজা চিঁড়ে এক বাটি অথবা অঙ্কুরিত ছোলা কিংবা ভুট্টার দানা দিয়ে তৈরি স্যালাড।
সন্ধে ৭.৩০টা: এক বাটি ডাল, এক বাটি সব্জি আর ৫০ গ্রাম মাছ অথবা একটি বড় বাটি ভর্তি সব্জি দিয়ে তৈরি চিকেন স্ট্যু
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
তবে পুজোর জন্য ক্র্যাশ ডায়েট করে ১ মাসে চার-পাঁচ কেজি কমানোর পক্ষপাতী নন পুষ্টিবিদ মঞ্জিরা সান্যাল। তিনি বলেন, ‘‘পুজোর আগে ক্র্যাশ ডায়েট করলে ওজন সাময়িক ভাবে কমলেও শরীর সঠিক ভাবে পুষ্টি পায় না। এ ক্ষেত্রে পুজোর ক’দিন যত না রোগা দেখাবে, তার থেকে অনেক বেশি ক্লান্ত লাগবে। তাই সুষম আহারে নজর দিন, ডায়েটে বৈচিত্র আনুন।’’
আরও পড়ুন:
পুজোর আগে যাঁরা রোগা হতে চাইছেন তাঁদের জন্য কিছু কৌশল মেনে চলার পরামর্শ দিলেন মঞ্জিরা।
১) রোজের ডায়েটে মরসুমি শাকসব্জি, ফল, ডাল আর পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন। রোজ এক রকম খাবেন না, রোজের খাবারে যত বৈচিত্র আনবেন, ততই বিপাকহার বাড়বে, মেদ ঝরার প্রক্রিয়াও তরান্বিত হবে।
২) পুজোর আগে চটজলদি অনেকেই সাপ্লিমেন্ট-নির্ভর হয়ে পড়েন। এমনটা না হওয়াই ভাল। বরং পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে সুষম খাবার খান। এর ফলে ত্বকও ভাল থাকবে আর প্যান্ডেল হপিং করার মতো শক্তিও থাকবে শরীরে।
৩) বিকেলে খিদে পেলেই অনেকে বাইরের ভাজাভুজি, প্যাকেটবন্দি খাবার খেয়ে নেন। আর তাতেই হয় বিপত্তি। তাই ওজন কমাতে হলে সবার আগে বিকেলে খিদে পেলে কী খাবেন, সেই ভাবনা আগে থেকে ভেবে রাখুন। বাড়ির বাইরে থাকলে বাড়িতে বানানো কিছু স্বাস্থ্যকর অথচ সুস্বাদু হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন।
৪) ওজন কমানোর ক্ষেত্রে জল খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের টক্সিন দূর করতে রোজ ৩ লিটার জল খেতে হবে। এ ছাড়া ডাবের জল, দইয়ের ঘোল, ইনফিউজ়ড ওয়াটার খেতে পারেন। এই সময় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় একেবারে বাদ দিতে হবে।
৫) ডায়েটের পাশাপাশি হালকা ব্যায়ামও কিন্তু করতে হবে। সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম একান্ত জরুরি।