Advertisement
E-Paper

যাপনের ভুলেই বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি! রোজের ৬টি অভ্যাস বদলে ফেললেই কমবে রোগের আতঙ্ক

রোজের কিছু সহজ অভ্যাস বদলাতে পারলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এমনই ৬টি অভ্যাস পরিবর্তন বা উপায়ের কথা বললেন মিশিগান নিবাসী স্নায়ুরোগ চিকিৎসক জয় জগন্নাথন। সেগুলি কী কী?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০২৬ ১৫:০৫
কোন ৬ অভ্যাসে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে?

কোন ৬ অভ্যাসে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে? ছবি: সংগৃহীত।

স্ট্রোক কেবল বয়সের রোগ নয়। নতুন ধরনের যাপনও এর নেপথ্যে দায়ী হতে পারে। রক্তচাপ, অন্যান্য রোগ, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদিও কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে রোজের কিছু সহজ অভ্যাস বদলাতে পারলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এমনই ৬টি অভ্যাস পরিবর্তন বা উপায়ের কথা বললেন মিশিগান নিবাসী স্নায়ুরোগ চিকিৎসক জয় জগন্নাথন। সেগুলি কী কী? আদৌ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য কার্যকর?

১. রক্তচাপ পরীক্ষা: প্রথমেই নজর দিন রক্তচাপের দিকে। উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলির একটি। কারণ, রক্তচাপ বেশি হলে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের রক্তনালির উপর চাপ বাড়তে থাকে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রক্তনালি। তা থেকে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করানো, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং প্রয়োজনে ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। নুন কম খাওয়া এবং নিয়মিত শারীরচর্চাও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবেন কী ভাবে?

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবেন কী ভাবে? ছবি: সংগৃহীত

২. নির্দিষ্ট নিয়মে হাঁটা: প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট করে শারীরচর্চা করা উচিত। হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা হালকা ব্যায়াম— যে কোনও শারীরিক সক্রিয়তাই রক্তসঞ্চালনকে ভাল রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের পাশাপাশি মস্তিষ্ককেও সুস্থ রাখে। চিকিৎসক ‘ব্রিস্ক ওয়াকিং’ বা দ্রুত গতিতে হাঁটার উপর জোর দিচ্ছেন বেশি।

৩. ধূমপান ত্যাগ: ধূমপানের ফলে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে প্লাক জমতে শুরু করে। পাশাপাশি, রক্তও জমাট বাঁধতে পারে। তাই ধূমপানের নেশা থাকলে যত দ্রুত সম্ভব তা ছাড়ার চেষ্টা করুন। নিজে ধূমপান না করলেও পাশে কেউ করলে সেখান থেকে সরে আসুন। নয়তো পরোক্ষ ভাবেও ধোঁয়া শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতি করতে পারে। একই ভাবে অতিরিক্ত মদ্যপানও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এই বদভ্যাসগুলি ত্যাগ করা দরকার দ্রুত। এতে ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমতে পারে।

৪. কোলেস্টেরল-ব্লাড সুগার পরীক্ষা: ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে শর্করা বা কোলেস্টেরলের মাত্রা দীর্ঘ দিন বেশি থাকলে রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে। উচ্চ মাত্রায় কোলেস্টেরল থাকলে ফ্যাট জমা শুরু হয়। মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলিতে তখন রক্তচলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত। উপসর্গের জন্য অপেক্ষা করলে দেরি হয়ে যেতে পারে।

৫. হৃৎস্পন্দনের দিকে নজর: অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আগে থেকে সতর্ক হলে স্ট্রোক-সহ একাধিক রোগের সম্ভাবনা কমানো যেতে পারে। মাঝেমধ্যে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ঝাপসা দৃষ্টি, অস্পষ্ট কথাবার্তা— এই ধরনের উপসর্গ দেখলে একেবারেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।

৬. খাদ্যাভ্যাস বদলানো: খাবারের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতি দিনের খাদ্যতালিকায় শাকসব্জি, ফল, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাভুজি, চিনি এবং নুন যত কম খাওয়া যায়, তত ভাল। সুষম খাবার শুধু হৃদ্‌যন্ত্র নয়, মস্তিষ্ককেও সুরক্ষা দেয়। এগুলি রক্তনালির স্বাস্থ্য ভাল রাখে। ফলে স্ট্রোকের আতঙ্কও কমতে পারে।

কোনও একটি অভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে না। এই সমস্ত অভ্যাস একই সঙ্গে এই কাজে ভূমিকা পালন করে। বদভ্যাসগুলি এড়িয়ে রোজ নিয়ম করে ব্যায়াম করা, ভাল খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা, স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা ইত্যাদির দিকে বিশেষ নজর দিলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।

Stroke Symptoms Stroke

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy