শরীরে কিছু খাবার হজম হওয়ার পর বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। ইউরিক অ্যাসিড তেমনই এক প্রকার বর্জ্য। কিন্তু কিডনি যখন এটি শরীর থেকে বার করতে পারে না, তখন রক্তে এর পরিমাণ বেড়ে গিয়ে নানা রোগ তৈরি করে। এই অ্যাসিড বাড়লে শরীরে কী হয়, এটি নিয়ে মানুষের মনে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। কেউ ডাল খাওয়া ছেড়ে দেন, কেউ টম্যাটো, কেউ বা পালংশাক। কিন্তু আদপে ত্যাগ করা উচিত কিছু অন্য অভ্যাস। করীনা কপূর খান এবং আলিয়া ভট্টের পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকর বিশেষ তিন পন্থাও মেনে চলার উপদেশ দিয়েছেন।
পুষ্টিবিদ বলছেন, ‘‘ডাল খেলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়, এই ধারণা এখন সেকেলে। তার বদলে তিনটি অভ্যাস মেনে চলুন। আর কিছু পরিত্যাগও করুন।’’ সঠিক খাওয়াদাওয়া ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে একে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি ঋজুতার উপদেশগুলিও কাজে আসতে পারে।
ইউরিক অ্যাসিড কমানোর উপায় কী? ছবি: সংগৃহীত
কোন কোন অভ্যাস মেনে চললে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে থাকবে?
১. জল পান ও খাবার: দিনে ২-৩ লিটার জল খেতে হবে। তা হলে বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সুবিধা হবে। নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত জল পান করলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে যায় ধীরে ধীরে। তার পাশাপাশি লাউ, ঝিঙের মতো জল এবং ফাইবারে পরিপূর্ণ সব্জিও খেতে হবে।
২. গোটা দানাশস্য: মিলেট, গম ইত্যাদির মতো দানাশস্য খেতে হবে বেশি করে। বাড়িতে গম এনে তা গুঁড়ো করে আটা বানিয়ে রুটি খেতে হবে। দোকানের আটা খাওয়ার অভ্যাস বন্ধ করে দিতে বলছেন ঋজুতা। চালের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত পরিশোধিত না হলেই ভাল। পুষ্টিবিদের পরামর্শ, সপ্তাহে অন্তত ২ বার মিলেটের রুটি খান।
৩. ভিটামিন সি-যুক্ত ফল: রোজ আমলকি খেতে বলছেন ঋজুতা। তা সে শুকোনো হোক বা আচার, মোরব্বা হোক কাঁচা— যে কোনও আকারেই আমলকি খাওয়া উচিত। যদি আমলকি ভাল না লাগে, তা হলে ভিটামিন সি-যুক্ত অন্য ফল খেতে হবে। যেমন, পেয়ারা, কমলালেবু ইত্যাদি।
এর পাশাপাশি রোজ সূর্যনমস্কারের মতো যোগাসন এবং ব্যায়াম করার পরামর্শ দিচ্ছেন করীনার পুষ্টিবিদ। তাঁর মতে, ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সূর্যনমস্কার করলে সেই ক্ষতি আটকানো যেতে পারে। অস্থিসন্ধিগুলির স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য তাই ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কী কী বাদ দেবেন?
• ধূমপান
• মদ্যপান
• প্যাকেটজাত খাবার
• দিনভর বসে থাকা
• ফোন ঘেঁটে দিন কাটানো