ফিট থাকার সংজ্ঞা কি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়? একসময় শারীরচর্চার লক্ষ্য ছিল পেশিবহুল দেহ তৈরি করা, শক্তিশালী চেহারা পাওয়া বা শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সেই লক্ষ্য বদলে যেতে পারে। অভিনেতা ইমরান খানের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হয়েছে। ৪২ বছর বয়সে এসে তাঁর কাছে ফিটনেস মানে শুধু বাহ্যিক রূপ নয়, বরং দীর্ঘদিন সক্রিয়, সুস্থ এবং মানসিক ভাবে ভাল থাকা।
কী ভাবে ফিট থাকেন ইমরান? ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইমরান জানালেন, বয়স যখন ২০-৩০ ছিল তখন তাঁর শারীরচর্চার রুটিনে ছিল ভারী ভারী ব্যায়াম। পাশাপাশি ছিল ক্রিয়েটিন ও গ্লুটামিনের মতো সাপ্লিমেন্টও। তখন শক্তিশালী, পেশিবহুল শরীর তৈরি করাই ছিল তাঁর ফিটনেসের বড় অংশ। কিন্তু ৪২ বছর বয়সে পৌঁছে সেই ধারণা পাল্টেছে। যত বেশি দিন সম্ভব, সুস্থ ভাবে সক্রিয় থাকার চেষ্টা, শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং মানসিক সুস্থতা থাকার প্রচেষ্টা— সেই দিকেই বেশি নজর ইমরানের।
ফিট থাকার জন্য অভিনেতার দুই মূল হাতিয়ার হল, পর্যাপ্ত জল পান এবং ঘুম। এই দুই বিষয়ের সঙ্গে আপস করতে রাজি নন ইমরান। তাঁর ব্যক্তিগত পরিচর্যার তালিকায় রয়েছে মাছের তেল, বিভিন্ন ভিটামিন, রেটিনল এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য সিরাম। শারীরচর্চার পাশাপাশি ঘুম, জল, পুষ্টি এবং ত্বকের যত্ন— সব কিছুকেই তিনি সামগ্রিক সুস্থতার অংশ হিসাবে দেখছেন। কিন্তু শারীরচর্চার নাম উঠলে আলস্য আসে তাঁর। তবু যথাসম্ভব ব্যায়াম করার চেষ্টা করেন বলিউড তারকা।
মানসিক ভাবে নিজেকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার জন্যও সময় রাখেন ইমরান। সপ্তাহান্তে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে তাঁর খামারবাড়িতে সময় কাটাতে পছন্দ করেন তিনি। সেখানে সারমেয় ও বিড়ালের জন্য একটি আশ্রয়স্থলও রয়েছে। গাছের মধ্যে তৈরি একটি ছোট কেবিন তাঁর জন্য নিরিবিলি সময় কাটানোর জায়গা। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই সময়টুকু তাঁর নিজস্ব। মাঝেমধ্যে ব্যস্ত জীবন থেকে সরে গিয়ে শান্ত পরিবেশে থাকা যে মানসিক সুস্থতারও অংশ, ইমরানের এই অভ্যাসে তারই ইঙ্গিত মেলে।