দাম্পত্যে ভালবাসা থাকা জরুরি, কিন্তু শুধু ভালবাসাই কি একটি সম্পর্ককে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে পারে? একই বাড়িতে, একই জীবনে দু’জন আলাদা মানুষকে একসঙ্গে পথ চলতে গেলে মতের অমিল, অভ্যাসের পার্থক্য কিংবা চাহিদার ফারাক থাকবেই। সেখানে একে অপরকে কতটা জায়গা দেওয়া যায়, সেটাই হয়ে ওঠে বড় প্রশ্ন।
সমাজমাধ্যমে ‘আস্ক মি এনিথিং’ নামের প্রশ্নোত্তরপর্বে এক নেটাগরিক তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, দাম্পত্য সুখের হয় কী ভাবে? তার উত্তরে বাদশা বলছেন, ‘‘একে অপরের রঙে রঙিন হয়ে উঠুন। একে অপরকে সুখী করার জন্য দু’জনেই অল্পবিস্তর মানিয়ে নিন।’’ ফের অনুরাগীদের মন জয় করে নিলেন বলিউডের ‘কিং’।
স্ত্রী গৌরীর সঙ্গে শাহরুখ। ছবি: সংগৃহীত
সত্যিই তো, দু’জনেই যদি মনে করেন, ‘একচুলও জায়গা ছাড়ব না’, তা হলে সম্পর্ক টিকবে কী ভাবে? তাই আপস কোনও কোনও ক্ষেত্রে দরকার। অবশ্য তারও পরিমাপ রয়েছে। কিন্তু শাহরুখের বক্তব্যের সঙ্গে একাধিক মনোবিদ কেন একমত?
একসঙ্গে থাকতে গেলে দু’জনের জীবনযাপন কিছুটা বদলাতেই পারে। কারও সঙ্গী হয়তো একা কিছুটা সময় কাটাতে পছন্দ করেন, অন্য জন হয়তো সবসময় কথা বলতে চান। কেউ সপ্তাহান্তে বাইরে যেতে ভালবাসেন, অন্য জন বাড়িতে থাকতেই স্বচ্ছন্দ। এমন ছোটখাটো পার্থক্যের জায়গায় পরস্পরের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
তবে মানিয়ে নেওয়া আর নিজের সমস্ত ইচ্ছা, প্রয়োজন বা পরিচয় বিসর্জন দেওয়া, এক বিষয় নয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন তখনই স্বাস্থ্যকর, যখন দু’জনেই পরস্পরের জন্য জায়গা তৈরি করেন। একটি সম্পর্কে সবসময় একজনই মানিয়ে যাবেন আর অন্য জন শুধু সুবিধা নেবেন— এমন সমীকরণ ভারসাম্য আনে না। সম্পর্কের পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনও সময়ে একজনকে বেশি দায়িত্ব নিতে হতে পারে। অসুস্থতা, কাজের চাপ কিংবা জীবনের কঠিন সময়ে এই ভারসাম্য সাময়িক ভাবে বদলাতেই পারে। কিন্তু সবসময় নয়।
দু’জন দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই একজনের প্রভাব পড়ে অপরের উপর। কথা বলার ধরন, পছন্দের খাবার, ছোট ছোট অভ্যাস, উৎসব পালনের ধরন বা অবসর কাটানোর পদ্ধতিতেও সেই ছাপ দেখা যেতে পারে। সেখানেই শাহরুখের উত্তরটি গুরুত্বপূর্ণ— ‘‘একে অপরের রঙে রঙিন হয়ে উঠুন।’’ কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, এক রং অন্য রংকে ছাপিয়ে যাবে, কোনও রংই যেন ফিকে না হয়ে যায়, বরং দুয়ে মিলে আরও সুন্দর কোনও রং তৈরির কথা বলতে চেয়েছেন শাহরুখ। আর সুখী দাম্পত্যের জন্য সেটিই বেশি জরুরি।