ক্যানসারের অনেক রকম ওষুধই আছে। তবে সেগুলি কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির বিকল্প নয়। রোগ গোড়ায় ধরা পড়লে ওষুধ দিয়ে ক্যানসারের ছড়িয়ে পড়া আটকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে গুয়াহাটির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) এবং ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডি ইন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএএসএসটি)-র গবেষকেরা এমন ওষুধ তৈরির দাবি করেছেন, যা শরীরে ঢুকে কেবল খুঁজে খুঁজে ক্যানসার কোষকেই ধ্বংস করবে। গবেষকদের দাবি, ওষুধটি ঠিক মতো কাজ করলে সেটি কেমোথেরাপির বিকল্প হিসেবেও কাজ লাগানো যাবে। এতে ক্যানসার রোগীর যন্ত্রণা অনেক কমে যাবে।
কী ওষুধ তৈরি হয়েছে?
ওষুধটির নাম ‘আরকে-২৫১’। যদিও ওষুধটি এখনও গবেষণার স্তরেই আছে, তবে এটি কী ভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন গবেষকেরা। ক্যানসার কোষের বিভাজন খুব দ্রুত হয়। খুব তাড়াতাড়ি সংখ্যায় বেড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে কোষে কোষে। গবেষকেরা দেখেছেন, এমন কিছু প্রোটিন শরীরেই থাকে, যারা ক্যানসার কোষের বাড়বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। যেমন ‘টিএকে১’ প্রোটিন। এই প্রোটিনটিই ক্যানসার কোষগুলিকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। সেই প্রোটিন সুকৌশলে তাদের আড়াল করে রাখে, যাতে ওষুধ ক্যানসার কোষ অবধি পৌঁছোতে না পারে। প্রোটিনটি ক্যানসার কোষের চারপাশে শক্তিশালী বর্ম তৈরি করে ফেলে। এমনকি এ-ও দেখা গিয়েছে, কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপির সময়ে এই প্রোটিনটি ক্যানসার কোষগুলিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তাদের বিভাজনেও সাহায্য করে। তাই শরীরের কোথাও ক্যানসার কোষের জন্ম হলে তা খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে গিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতেই তখন কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপি দিয়ে ক্যানসার কোষগুলিকে নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা হয়।
আরও পড়ুন:
এতে সমস্যা হল, কেমোথেরাপি কেবল ক্যানসার কোষকে নষ্ট করে না, আশপাশের সুস্থ কোষগুলিকেও নষ্ট করতে থাকে। সুস্থ কোষ ও ক্যানসার কোষের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা কেমোথেরাপির নেই। তাই এই চিকিৎসায় যন্ত্রণা বেশি ও দীর্ঘমেয়াদে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে রোগীর। এই সমস্যার সমাধানেই আইআইটি গুয়াহাটির গবেষকেরা তৈরি করেছেন ‘আরকে-২৫১’, যা কেবল ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারবে।
কী ভাবে ক্যানসার কোষ নষ্ট হবে?
‘আরকে-২৫১’ ওষুধটি কাজ করবে বিশেষ উপায়ে। এটি শরীরে ঢুকে নিষ্ক্রিয় থাকবে। ক্যানসার কোষের সংস্পর্শে এসেই সক্রিয় হয়ে উঠবে। প্রথমত, ওষুধটি ক্যানসার কোষের প্রোটিনকে নষ্ট করবে, তার পর ক্যানসাররোধী এক রকম রাসায়নিক তৈরি করবে, যা শরীরে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসারের বিষ নষ্ট করতে পারবে। এই উপাদানটি হল ‘এনবিডিএইচইএক্স’, যা ওষুধের ভিতরেই পুরে দেওয়া থাকবে। সে ক্যানসার কোষের চারপাশে এই উপাদানটি ছড়িয়ে দেবে, যাতে কোষের বাড়বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়, সুরক্ষাকবচও ভেঙে যায়। অনেকটা বেড়া দেওয়ার মতো। তার পর ধীরে ধীরে ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলিকে ধ্বংস করতে শুরু করবে। গবেষকদের আশা, ওষুধটি মানুষের শরীরে ঠিকমতো কাজ করলে ভবিষ্যতে সেটি কেমোথেরাপির বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
কাদের জন্য ভাল?
সারা শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে, কেমোথেরাপিও কাজ করবে না, এমন রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধটি কার্যকর হতে পারে।
রোগী অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতার কারণে কেমোথেরাপির যন্ত্রণা সইতে না পারলে, এই ওষুধটি বিকল্প উপায় হতে পারে।
ক্যানসার কতদূর ছড়িয়েছে, তা সঠিক ভাবে চিহ্নিত করা না যায়নি, এমন রোগীকে এই ওষুধ দিয়ে দেখা যেতে পারে। গবেষকদের আশা, ওষুধটি ঠিক খুঁজে খুঁজে ক্যানসার কোষ চিহ্নিত করে তা নষ্ট করে দেবে।