সকালের সাজ তুলতে না তুলতেই সান্ধ্য আড্ডার জন্য সাজতে বসার পালা— পুজোর ক’দিন ভারী মেকআপের প্রলেপ পড়বে ত্বকে। তার জন্য ত্বককে প্রস্তুত করে তুলতে হবে আগে থেকেই। ক্লান্ত ও অবসন্ন ত্বক যতই মেকআপে ঢাকুন, জৌলুসে ঘাটতি পড়বেই। তাই কিছু সহজ রুটিন মেনে ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনুন।
- নিয়মিত পরিচর্যা: শুধু পুজোর আগে নয়, সারা বছর একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে ত্বকচর্চা করলে পুজোর ক’দিন আর আলাদা করে প্রস্তুতির দরকার হয় না। যাঁদের তা করা হয়ে ওঠে না, তাঁরা অবশ্যই এ ক’দিন ক্লেনজ়িং, টোনিং ও ময়শ্চারাইজ়িংয়ের রুটিন মেনে চলবেন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী বিশেষ কোনও সেরাম বেছে নিন। রোজ ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করে কয়েক ফোঁটা সেরাম লাগিয়ে নিন। হায়ালুরনিক অ্যাসিড কিংবা নায়াসিনামাইড ও রাইস ওয়াটার সমৃদ্ধ সেরাম বেছে নিতে পারেন, যে কোনও ধরনের ত্বকের পক্ষে কার্যকর এগুলি। মেকআপ করার সঙ্গে সঙ্গে মেকআপ পরিচ্ছন্ন ভাবে তুলে ফেলাও জরুরি। যতই ক্লান্ত থাকুন, মেকআপ ভাল করে না তুলে রাতে ঘুমোতে যাবেন না।
মেকআপ শিল্পী অনিরুদ্ধ চাকলাদার বললেন, “কারও ত্বকের পরিচর্যার অভ্যেস না থাকলে হঠাৎ পুজোর আগে ক’দিনের জন্য প্রস্তুতি নিলে তার চটজলদি ফল পাওয়া মুশকিল। তাই প্রস্তুতি শুরু হোক আগে থেকেই। একান্তই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে গেলে খেয়াল রাখতে হবে, স্কিন টাইপ বুঝে তবেই প্রডাক্ট বাছা দরকার। কারণ, সংবেদনশীল ত্বকে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে গেলে আচমকা র্যাশ বা অ্যালার্জি বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।” তিনি মনে করিয়ে দিলেন, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে স্কিনকেয়ার করা জরুরি। অর্থাৎ বাতাসে টান ধরা শুরু হলে সেই অনুযায়ী ত্বককে অতিরিক্ত আর্দ্র রাখা প্রয়োজন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
- পরীক্ষানিরীক্ষা নয়: মেকআপ বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির সময়ে ঘরোয়া টোটকার বদলে ভরসা রাখুন ব্র্যান্ডেড, টেস্টেড ফেসপ্যাকে। নিজের স্কিন টাইপ অনুযায়ী বেছে নিন কোনও শিট মাস্ক, ডিট্যান মাস্ক বা ফেস প্যাক। তার আগে অল্প করে ব্যবহার করে অবশ্যই পরখ করে নেবেন, ত্বকে কোনও প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না। তৈলাক্ত ত্বক হলে মেকআপ ব্যবহার করার আগে বরফের টুকরো মুখে ঘষে নিতে পারেন। ডার্মাটোলজিস্ট বা কসমেটিক বিউটিশিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে কোনও বিশেষ স্কিন ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিতে পারেন। ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করতে চাইলে টক দই, মধু, বেসন কিংবা কফির মতো নিরাপদ বিকল্প ব্যবহার করতে পারেন। চটজলদি ট্যান তুলতে কফি কিংবা দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফেরাতে মধু, দুধের সর ব্যবহার করতে পারেন।
- খাদ্যাভ্যাসে নজর: পুজোর ক’দিন এমনিতেই বাইরে খাওয়াদাওয়া হয়। কী খাচ্ছেন, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকে। বেশি ভাজাভুজি বা তেল-ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার খেলে তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পরিপাকতন্ত্র ঠিক মতো কাজ না করলে ত্বক অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে। ত্বকে জেল্লা আনতে ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। হাই প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রচুর পরিমণে সবুজ আনাজপাতি ও ফল রোজকার ডায়েটে রাখুন। এতে ত্বক ভিতর থেকে ভাল থাকবে। বেশি করে জল খেতে হবে, তা-ও ত্বকের জেল্লা ফেরাতে কার্যকর।
- শেষকথা: মেকআপ করার আগে ফেস মিস্ট বা হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহার করবেন। এতে ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক থাকে ও আর্দ্রতা বজায় থাকে। সেরামের প্রয়োগে ত্বকে মসৃণ ভাব আসে। চোখের কোণে ডার্ক সার্কল থাকলে আন্ডার আই ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। মেকআপ শুরুর আগে প্রাইমার লাগাতে ভুলবেন না। এতে ত্বকের যাবতীয় খুঁত সহজেই ঢেকে ফেলা যায়। ব্রণ বেশি থাকলে প্যাচ ব্যবহার করতে পারেন।
মনে রাখবেন, মেকআপের ভারে ত্বক শ্বাস নিতে পারছে না, এমন যেন না হয়। প্রাণবন্ত, স্বাস্থ্যকর ত্বক সামান্য মেকআপেও নজর কেড়ে নেবে।
ছবি: অমিত দাস
মডেল: ডিম্পল আচার্য, হিয়া মুখোপাধ্যায়