সুস্থ থাকতে ভিটামিন ডি-র কোনও বিকল্প নেই। হাড়ের যত্ন নিতে, চাঙ্গা থাকতে ভিটামিন ডি অত্যন্ত জরুরি। শরীরে ভিটামিন ডি-র পরিমাণ পর্যাপ্ত থাকে, তা হলে অনেক সমস্যা থেকেই দূরে থাকা যায়। সূর্যের আলো হল ভিটামিন ডি-র অন্যতম উৎস। তাই চিকিৎসকেরা রোজ সকালে কিছুক্ষণের জন্য রোদে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। তাতে শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি পূরণ হয়। তবে এই প্রখর রোদে গিয়ে দাঁড়ানোর উপায় নেই। তাতে আবার অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ করতে অনেকেই সাপ্লিমেন্টের উপর ভরসা রাখছেন। শরীরের জন্য জরুরি হলেও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। জানাচ্ছেন চিকিৎসক তরঙ্গ কৃষ্ণ। তাঁর কথায়, ‘‘শরীরে কিছুতেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হতে দেওয়া চলবে না। এই ভিটামিনের অভাবে অস্থিসংক্রান্ত নানা সমস্যা হতে পারে। সূর্যের আলো ছা়ড়াও বেশ কিছু খাবারে ভিটামিন ডি রয়েছে। তবে অনেকেই সেগুলিকে যথেষ্ট বলে মনে করেন না। তাই অনেকেই সাপ্লিমেন্ট খান। তবে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সেগুলি মেনে না চললে মুশকিলে পড়তে হতে পারে।’’ ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ক্ষেত্রে কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চলা জরুরি?
চিকিৎসকের মতে, ভিটামিন ডি এর ক্যাপসুল জলের সঙ্গে খেলে আপনার অর্থেরও অপচয় হবে, সেই সঙ্গে শরীরেরও ক্ষতি হবে। চিকিৎসক বলেন, ‘‘ভিটামিন ডি হল ফ্যাটে দ্রাব্য ভিটামিন। এর অর্থ হল এটি জলে নয়, ফ্যাট বা চর্বির সঙ্গে মিশে যায়। অনেকে সকালে খালি পেটে ভিটমিন ডি-এর ক্যাপসুল খেয়ে নেন, তবে এতে কোনও লাভ হয় না শরীরের। শরীরে আগে থেকে কোনও স্বাস্থ্যকর ভারী খাবার না থাকলে অগ্ন্যাশয় এই ভিটমিনকে শোষণ করতে পারে না। তাই খালি পেটে নয়, দুপুরে পেট ভরে খাবার খেয়েই এই সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত।’’
চিকিৎসক আরও জানান, শরীরে অনেক বেশি ভিটামিন ডি ঢুকলে পাকস্থলীতে ক্যালশিয়ামের শোষণ বেড়ে যায়। সেই ক্যালশিয়ামকে খুঁজে হাড়গুলিতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে ভিটামিন কে২। শরীরে কে২ ভিটামিনের অভাব থাকলে পাকস্থলীর সমস্ত ক্যালশিয়াম হাড়ের বদলে কিডনিতে জমা হয়ে পাথরে রূপান্তরিত হয়। তাই ভিটামিন ডি-র সঙ্গে ভিটামিন কে২ না খেলে শরীরে লাভের থেকে ক্ষতি বেশি হয়। তাই ভিটামিন ডি৩-এর সাপ্লিমেন্ট কেনার সময়ে দেখে নেবেন তাতে ভিটামিন কে২-ও আছে কি না।