খেতে ভাল। রান্নাও সহজ। দিনে দিনে বাড়ছে প্যাকেটবন্দি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা। রকমারি চিপ্স থেকে ইনস্ট্যান্ট নুডল্স, হিমায়িত নাগেট্স, ফ্রেঞ্চফ্রাই থেকে সসেজ— ছোট থেকে বড়রা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগও করছেন এই সব খাবার।
প্যাকেটবন্দি, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়, বার বার বলছেন চিকিৎসকেরা। কারণ, তাতে বাড়তে পারে কোলেস্টেরল, স্থূলত্বের মতো অসুখ। তবে, শুধু ওজন বৃদ্ধি বা বদহজম নয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার ক্ষতি করতে পারে মস্তিষ্কেরও।
পুণে নিবাসী স্নায়ুরোগ চিকিৎসক মহেশ যাদব বলছেন, প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কেও তার প্রভাব পড়তে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যের যেমন ক্ষতি হতে পারে, তেমনই অসুবিধা হতে পারে মনঃসংযোগে। হতে পারে স্মৃতিনাশও।
২০২৬ সালে ‘আমেরিকান জার্নাল অফ পাবলিক হেলথ’-এ প্রকাশিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, যাঁরা নিয়মিত অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার খাচ্ছেন তাঁদের ডিমেনশিয়া (স্মৃতিনাশের মতো অসুখ) হওয়ার ঝুঁকি ৫৮ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। শুধু ভুলে যাওয়া নয়, এতে নষ্ট হতে পারে চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, দিনভর মস্তিষ্ককে নানা রকম কাজ সামলাতে হয়। আর সেই জন্যই দরকার হয় শক্তির। মস্তিষ্ক সচল রাখতে সাহায্য করে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ। সঠিক পুষ্টি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে, মনঃসংযোগে সাহায্য করে।
দিনের পর দিন অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে ঘাটতি হয় প্রয়োজনীয় পুষ্টির। কারণ, চিপ্স থেকে ভাজাভুজি, প্যাকেটজাত খাবারে ক্যালোরির মাত্রা বেশি হলেও বেশির ভাগ খাবারেই ভিটামিন, খনিজ প্রায় থাকে না বললেই চলে। খাবারে চিনি, নুনের আধিক্যও স্বাস্থ্যে পক্ষে ক্ষতিকর। ফলে, নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত বা অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে পেট ভরালে পুষ্টির ঘাটতি হবে। তার ফলেই নষ্ট হতে পারে মস্তিষ্কের কোষ। তার জেরে কমতে পারে মনঃসংযোগের ক্ষমতা। ভাবনাচিন্তায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। দিনের পর দিন এমন অভ্যাসে ছোট-বড় সকলেরই ক্ষতি হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যও বিপর্যস্ত হতে পারে।
কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে
· পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি
· পড়াশোনা বা কাজে মন দিতে সমস্যা
· দ্রুত মেজাজ হারানো
· মানসিক চাপ
· স্পষ্ট ভাবে ভাবনাচিন্তায় সমস্যা
মস্তিষ্ক ভাল রাখতে প্রক্রিয়াজাত খাবার যথা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভাল। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জুড়তে হবে তৈলাক্ত মাছ, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার, ডিম, টাটকা সব্জি, মরসুমি ফল, বাদাম এবং বীজ। কারণ এই খাবারগুলি স্বাস্থ্যকর, পূরণ করে পুষ্টির শর্ত।