স্বাস্থ্যকর প্রাতরাশ হিসেবে চিলার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। উত্তর ভারতীয় এই পদটি এখন স্বাস্থ্যসচেতনদের তালিকায় থাকে। কখনও ওট্স দিয়ে, কখনও বেসন দিয়ে তৈরি হয় চিলা। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিংবা প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এই পদটি রোজের খাবারের তালিকায় রাখেন অনেকে। কিন্তু প্রশ্ন হল, ওট্স চিলা আর বেসনের চিলার মধ্যে কোনটিতে প্রোটিন বেশি? কোনটি খেলে পেট ভরা থাকবে দীর্ঘক্ষণ? পুষ্টিবিদদের মতে, উত্তরটা জানতে গেলে শুধু উপকরণ নয়, পরিমাণ এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সে দিকেও নজর দিতে হবে।
প্রোটিনের পরিমাণের নিরিখে সাধারণত ওট্সের তুলনায় এগিয়ে থাকে বেসন। ১০০ গ্রাম বেসনে প্রায় ২২ গ্রাম প্রোটিন থাকে। অন্য দিকে, ১০০ গ্রাম ওট্সে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ১৭ গ্রাম।
তবে শুধু এই হিসাব দেখলেই হবে না। বাড়িতে চিলা বানানোর সময় কতটা বেসন বা ওটস ব্যবহার করছেন, তার উপরেও নির্ভর করে খাবার থেকে কতটা প্রোটিন পাবেন। পুষ্টিবিদের হিসাব অনুযায়ী, ৩০-৪০ গ্রাম ওটস দিয়ে তৈরি চিলায় প্রায় ৩-৫ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে। অন্য দিকে, ৩০-৫০ গ্রাম বেসন দিয়ে তৈরি চিলায় প্রোটিনের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ৬-৮ গ্রাম। অবশ্য চিলার আকার, উপকরণের পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতির উপর নির্ভর করে এই হিসাব বদলাতে পারে। শুধু প্রোটিনের পরিমাণ বিবেচনা করলে সাধারণ বেসনের চিলা ওট্সের চিলার তুলনায় এগিয়ে। তবে তার মানে এই নয় যে ওট্সের পুষ্টিগুণ কম।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে অনেকেই এমন খাবার খোঁজেন, যা খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং বার বার খিদে পায় না। সে ক্ষেত্রে বেসনের চিলা ভাল বিকল্প হতে পারে। কারণ, বেসনে প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবারও রয়েছে। ১০০ গ্রাম বেসনে প্রায় ১০.৮ গ্রাম ফাইবার পাওয়া যায়।
তবে চাইলে দু’টি উপকরণ, অর্থাৎ ওট্স এবং বেসন একসঙ্গেও ব্যবহার করতে পারেন। পুষ্টিবিদদের মতে, ওট্স ও বেসন মিশিয়ে চিলা তৈরি করলে দু’টিরই পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। বেসন থেকে মিলবে প্রোটিন, আর ওট্সে রয়েছে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট এবং বিটা-গ্লুকান নামে এক ধরনের দ্রাব্য ফাইবার।