তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে রাজত্ব করছেন অভিনেতা শাহরুখ খান। ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ থেকে শুরু, তার পর ‘বাজিগর’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’, ‘চক দে ইন্ডিয়া’, ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’-এর মতো একের পর এক হিট ছবি দর্শককে উপহার দেন ‘বাদশাহ’। এ বছর ৬১-তে পা রাখলেন শাহরুখ, কিন্তু পর্দায় তাঁকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। জীবনযাপনে কড়া অনুশাসনই শাহরুখের ফিটনেসের মূল মন্ত্র। কোন ফিটনেস রুটিন মেনে চলেন ‘বাদশাহ’?
১. দিনে মাত্র এক বেলা খাবার
এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ নিজেই জানিয়েছিলেন, ‘‘আমি দিনে একবারই খাই। এটা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নয়, আমার ব্যক্তিগত পছন্দ।’’ এই মুহূর্তে সমাজমাধ্যমে ‘ওয়ান মিল আ ডে’ (ওএমএডি বা ‘ওম্যাড’) ঘিরে কৌতূহল দানা বেঁধেছে। অর্থাৎ এই ডায়েট অনুসরণ করলে, ব্যক্তি দিনে মাত্র একবার খাবার খাবেন। তবে শাহরুখ বহু বছর ধরেই এই নিয়ম মেনে চলেছেন। তিনি মোটেও ভোজনরসিক নন। চিনি বলেন, ‘‘মুঝে পকওয়ান পসন্দ নহি।’’ অর্থাৎ, খাবারে খুব বেশি আড়ম্বর তাঁর পছন্দ নয়।
২. প্রতিদিন একই খাবার খান
শাহরুখ বহু বছর ধরে একই ধরনের খাবার খেয়ে অভ্যস্ত। অঙ্কুরিত ছোলাবাদাম, গ্রিলড চিকেন, ব্রকোলি আর সামান্য ডাল— এগুলিই হল তাঁর রোজের খাবার। এ ছাড়া কোনও স্ন্যাক্স, বাইরের খাবার খান না তিনি। শাহরুখ বলেছেন, তিনি যখন কারও বাড়িতে যান বা বিমানে থাকেন, তখন সব খান— বিরিয়ানি থেকে ঘি দেওয়া পরোটা, লস্যি- কোনও বাছবিচার করেন না, হবে পরিমাণটা খুবই কম। এ ছাড়া শাহরুখের কফিপ্রেমের কথা বি-টাউনে সবার জানা। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন, দিনে নাকি ৩০ কাপ ব্ল্যাক কফি খান!
৩. ঘুমোন ভোর ৫টায়, জিম রাত ২টোয়
শাহরুখ ভীষণ কর্মঠ এবং কাজপাগল একজন মানুষ। তাঁর ঘুমের সময় আরও অদ্ভুত। তিনি ঘুমোতে যান ভোর ৫টায়, ওঠেন সকাল ৯টা-১০টায়। রাত ২টোয় শুটিং থেকে ফিরে স্নান করে, আধ ঘণ্টা জিম করে তবেই ঘুমোতে যান।
কোনও অধুনিক ডায়েট প্ল্যান নয়, ঘরের সাধারণ, প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার আর চরম শৃঙ্খলাই ৬১ বছর বয়সেও শাহরুখকে ফিট রেখেছে। তিনি নিজে বলেন, ফিটনেস ট্রেন্ড আদতে একটা হিড়িক, এটা মেনে চলার বিষয় নয়। শাহরুখের মতে ফিটনেস আসলে সকলের দায়বদ্ধতা হওয়া উচিত। তিন দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেও পর্দার বাইরে আজও তিনি সেই দিল্লির ছেলেটিই রয়ে গিয়েছেন- সাদামাঠা, একরোখা আর ভীষণ নিয়ম মেনে চলা একজন মানুষ। হয়তো এই সাধারণ থাকাটাই তাঁকে ‘কিং খান’ বানিয়ে রেখেছে।