খাওয়ার সময়ে মোবাইল দেখা, টেলিভিশন চালিয়ে রাখা বা কাজের ফাঁকে তাড়াহুড়ো করে খাবার শেষ করা— ব্যস্ত জীবনের এমন ছবি ঘরে ঘরে। অথচ খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, তার স্বাদ, গন্ধ এবং প্রতিটি উপাদান উপভোগ্য। খাবার খাওয়ার সৌন্দর্যই যেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। আর সেই বদভ্যাস সংশোধনের পথে পা বাড়িয়েছেন অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এখন তিনি প্রতিটি খাবার খেতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় দেন। ৫০ বছর বয়সে এসে শিখেছেন সচেতন ভাবে খাওয়ার গুরুত্ব। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের খাবার খাওয়ার যে ঐতিহ্য, সেখানে খাবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জায়গা ছিল। এখন সে সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমিও এই বয়সে এসে ‘মাইন্ডফুল ইটিং’-এর পদ্ধতি শিখছি। এখন আমি আধ ঘণ্টা ধরে খাই। মানুষ তো দু’বেলা খাবে বলেই এত পরিশ্রম করে। সেটাই যদি ভাল ভাবে না করে, তা হলে কী লাভ?’’
পঙ্কজ কতক্ষণ ধরে খাবার খান? ছবি: সংগৃহীত
‘মাইন্ডফুল ইটিং’ কী? কেন এই অভ্যাস স্বাস্থ্যকর হতে পারে?
স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ এখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। খাওয়ার সেই ধরনকেই রপ্ত করছেন পঙ্কজ। সারাদিনের পরিশ্রমের পরে যে খাবারটুকু খাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়, সেটুকু সময় অন্তত মন দিয়ে খাওয়া উচিত বলেই মনে করেন অনেকে। খাওয়ার সময়ে তাঁর মনোযোগ থাকবে শুধু খাবারের উপর, অন্য কোনও বিষয়ে নয়। অর্থাৎ, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কী ভাবে খাচ্ছেন, সে দিকেও নজর দেওয়া। খাবারের স্বাদ, গন্ধ, গঠন এবং নিজের তৃপ্তির অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন থাকাই এর মূল কথা।
খাওয়ার সময়ে ফোনে স্ক্রল করা, টিভি দেখা বা ল্যাপটপে কাজ করতে থাকলে কতটা খাওয়া হয়ে গেল, তা খেয়াল থাকে না প্রায়শই। মন অন্য দিকে থাকায় খাবার চিবোনোর দিকেও যথেষ্ট নজর দেওয়া হয় না। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে। ধীরে ধীরে খেলে শরীর তৃপ্তির সঙ্কেত বুঝতে পারে। পেট ভরে গিয়েছে কি না, আরও খাবার প্রয়োজন কি না, তা বুঝতে সুবিধা হয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। খাবার খাওয়া শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই মস্তিষ্ক বুঝতে পারে না যে, পেট ভরে গিয়েছে। পাকস্থলীতে খাবার পৌঁছোনো এবং হজমের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে সেখান থেকে বিভিন্ন সঙ্কেত মস্তিষ্কে পৌঁছোয়। এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে। সেই সময়টা দেওয়া উচিত দেহকে। খাওয়ার শুরু থেকে তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি হতে প্রায় ২০-৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে। তাই খুব দ্রুত খাবার শেষ করে ফেললে মস্তিষ্কের কাছে পেট ভরা ও তৃপ্তির সঙ্কেত পৌঁছোয় না। তার আগেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলেন অনেকে। তাতে হজমেও সমস্যা হতে পারে। তা ছাড়া খাবার খাওয়ার আনন্দও উপভোগ করতে পারেন না।