পুজো শেষ। কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া, ঘোরাঘুরি আর আড্ডার মাঝে শারীরচর্চার কথা অনেকেই ভুলতে বসেছেন। ফলে এখন ক্লান্তি বেড়েছে। গা, হাত-পায়ে ব্যথা। কাজে ফেরার উৎসাহই নেই। পুরোদমে কাজে ফিরতে হলে শরীরকে সুস্থ রাখতেই হবে। সে জন্য জরুরি ব্যায়াম। সহজ কিছু স্ট্রেচিং ও যোগাসনেই শরীর চাঙ্গা থাকবে।
উত্তনাসন বা স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড
ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। কোমর, পিঠ থাকবে টান টান। এ বার কোমর থেকে শরীর ঝুঁকিয়ে দুই হাতের তালু দিয়ে মাটি স্পর্শ করার চেষ্টা করতে হবে। তবে হাঁটু ভাঙলে হবে না। শারীরচর্চা করার অভ্যাস না থাকলে খুব বেশিক্ষণ এই অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন না। মোটামুটি ১০ সেকেন্ড মতো থেকে আবার প্রথম অবস্থানে ফিরে আসুন।
পুশ আপ
হাত একদম কাঁধের সোজাসুজি রাখতে হবে। হাতের তালু থাকবে উলম্ব ভাবে। তবে যাঁরা সবে ব্যায়ামটি শুরু করছেন, তাঁদের পক্ষে এ ভাবে হাত রাখা একটু অসুবিধাজনক হতে পারে। হাতের পেশির নমনীয়তা বাড়লে ধীরে ধীরে হাত সেই ভাবে রাখা সম্ভব হবে। পুশ আপ করার সময় গোটা শরীর একটি সমান রেখায় থাকা উচিত। আর খেয়াল রাখতে হবে, খুব তাড়াহুড়ো করে এই ব্যায়াম হয় না। ধীরে ধীরে করাই ভাল।
সুপ্ত মৎস্যেন্দ্রাসন
প্রথমে শবাসনে শুয়ে পড়ুন, হাত দু’পাশে টানটান থাকবে। এ বার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে, বাঁ পা মাটির সঙ্গে টানটান করে রাখুন। বাঁ হাত দিয়ে ডান হাঁটুটিকে ধরে আপনার বাঁ দিকে নিয়ে যান। অর্থাৎ, শরীরের বাঁ দিকে মোচড় দিন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই ভঙ্গিমায় ১ থেকে ১০ গুনুন। আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
আরও পড়ুন:
উপুড় হয়ে রোয়িং
দু’হাতে দু’লিটারের দু’টি জলভর্তি বোতল বা ডাম্বেল নিয়ে একটা বেঞ্চে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। মাথা থেকে গলা পর্যন্ত বেঞ্চের বাইরে রাখুন। এ বার বোতল বা ডাম্বেলটা মাটির দিক থেকে কনুই ভেঙে কাঁধের উচ্চতায় তুলুন আর নামান। মোট ১০ বার।
সিদ্ধাসন
প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসুন। পিঠ টানটান থাকবে। শ্বাসপ্রশ্বাস ধীরে ধীরে নিন। বাঁ পা ভাঁজ করে বাঁ হাঁটু ডান পায়ের কাফ মাসলের উপর রাখুন। একই ভাবে ডান পা ভাঁজ করে ডান হাঁটু বাঁ পায়ের কাফ মাসলের উপর রাখুন। এর পর দুই হাত হাঁটুর উপর রাখুন। জ্ঞান মুদ্রা করতে পারেন। তর্জনী ও বুড়ো আঙুল স্পর্শ করে এবং বাকি তিনটি আঙুল সোজা রাখতে হবে। এই আসনে মনঃসংযোগ বাড়বে। কাজে উৎসাহ ফিরবে। ক্লান্তি কেটে যাবে।