হাতে আর মাত্র দু’দিন। রং খেলার প্রস্তুতি প্রায় সারা। কিন্তু রং খেলায় আনন্দ যেমন রয়েছে, তেমনই আবির, কৃত্রিম রং থেকে নানা সমস্যাও হতে পারে, বিশেষত বাচ্চাদের। আনন্দের মুহূর্ত যাতে আতঙ্কে না বদলে যায়, তার জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ।
ছোটদের জন্য
বাচ্চার প্রথম দোলে সতর্ক থাকতে হবে। সন্তানের যে রঙে অ্যালার্জি রয়েছে, তা অনেক মা-বাবাই বুঝতে পারেন না। এতে রং থেকে বাচ্চার হাঁচি, শ্বাসকষ্ট হলে, চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়। বাচ্চা প্রথম বার রং খেলার আগে শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। উৎসবের দিনে সমস্যা এড়াতে একবারে আবির, রং খেলতে না দিয়ে বরং আগে অল্প একটু মাখিয়ে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, দেখে নিতে পারেন। জেনারেল ফিজ়িশিয়ান সুবীর মণ্ডল বলছেন, “সামান্য সমস্যা হলেও বাচ্চাকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। নিজে থেকে কোনও ওষুধ দেবেন না।” যে সব বাচ্চার অল্পেই ঠান্ডা লাগে, যাদের আগেও শ্বাসের সমস্যা হয়েছে, নেবুলাইজ়ার নিতে হয়েছে, দোলের দিন তাদের নিয়ে সতর্ক থাকুন। মাস্ক পরিয়ে রং খেলতে পাঠান। চোখ বাঁচাতে রোদচশমা পরান। জলরঙের বদলে শুধু আবির খেললে ঠান্ডা লাগবে না।
বড়দের জন্য
- রং খেলার আগে ময়শ্চারাইজ়ার বা নারকেল তেল লাগিয়ে নিন।
- স্পর্শকাতর ত্বক হলে ভেষজ রং দিয়ে দোল খেলতে পারেন। বাজারে গোলাপ, অপরাজিতা, জবা ইত্যাদি ফুলের পাপড়ি থেকে তৈরি আবির সহজলভ্য।
- কড়া রং এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।
- রং তোলার জন্য মুখে স্ক্রাবার ঘষবেন না, ত্বকের ক্ষতি হয়।
- আবির বা রং চোখে ঢুকলে না রগড়ে জলের ঝাপটা দিন। সমস্যা এড়াতে রোদচশমা পরুন। কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে, খেলার আগেই তা খুলে নিন।
- রং থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। সাধারণ অ্যালার্জির ওষুধ এ ক্ষেত্রে কাজে দেয়। তবে আধ ঘণ্টার মধ্যে কষ্ট না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- ডাস্ট বা কোল্ড অ্যালার্জির ধাত থাকলে, নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার করলে আবির বা রং থেকে দূরে থাকুন।
- রং হাতে খাবার একদম না। এতে পেটের গোলমাল হতে পারে।
আবহাওয়া বদলের এ সময়ে শরীর খারাপের আশঙ্কা থাকেই। তার মধ্যে রং খেলে দীর্ঘক্ষণ ভিজে গায়ে থাকলে তো কথাই নেই! তাই সাবধানে থাকুন।