সম্প্রতি ইতিহাস গড়েছেন পিভি সিন্ধু। ভারতের প্রথম ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসাবে জাপান ওপেন চ্যাম্পিয়ন হলেন। দু’বছর পর কোনও প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলেন সিন্ধু। দু’বারের অলিম্পিক্স পদকজয়ী সিন্ধুকে বহুদিন পর আবার চেনা মেজাজে দেখতে পেল ক্রীড়াপ্রেমীরা।
চোট-আঘাত নিয়ে বেশ কিছু দিন ভুগেছেন সিন্ধু। বাড়িতে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য নানা রকম কসরত করেছেন তারকা। সিন্ধু ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “দ্রুত সেরে ওঠার জন্য আমি নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছি বাড়িতে। পুরোটাই স্বামীর সৌজন্যে। ও বাড়িতে ‘ইনভার্সন টেবিল’ কিনে এনেছিল এবং আমাকে তা ব্যবহার করতে রাজি করিয়েছিল। আরেক প্রিয় বন্ধু ওকে বুঝিয়েছিল যে ‘রেড-লাইট থেরাপি’-ই হল সেরে ওঠার সহজ সমাধান।”
সিন্ধুর দাবি, একদিন সকালে তাঁর বাড়িতে জাদুর মতো হাজির হল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণযোগ্য গদি। শোয়ার আগে ‘টার্ট চেরি জুস’ খাওয়া প্রায় নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে রিকভারি বুট, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ও ক্রায়োথেরাপি। তারকা লেখেন, “এখন আর আমি ওকে কোনও প্রশ্নই করি না... শুধু বলি, ‘আচ্ছা... আজকের পরীক্ষাটা কী?’”
সিন্ধুর পোস্ট দেখার পর অনেক অনুরাগীর মনেই প্রশ্ন এসেছে, তা হলে কি টার্ট চেরি জুস খেলে ঘুম ভাল হয়? মুম্বই নিবাসী পুষ্টিবিদ অমরিন শেখের মতে, নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে এই বিশেষ রস রাখা ভীষণ উপকারী। টার্ট চেরির টক ভাব সাধারণ চেরির তুলনায় বেশি থাকে। তিনি বলেন, “টার্ট চেরি জুসে অ্যান্থোসায়ানিনের মতো প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যার মধ্যে অ্যান্টি-ইমফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও রয়েছে যথেষ্ট। সামান্য প্রাকৃতিক মেলাটোনিনও পাওয়া যায় এতে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এটি ঘুমের মান উন্নত করতে এবং কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের পর শরীরকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।”
তবে অমরিন জানিয়েছেন, এটি কোনও জাদুকরী পানীয় নয়। ক্রীড়াবিদদের অনেকেই এই পানীয় খান শরীর চাঙ্গা রাখার জন্য। ভাল ঘুম শরীরকে পেশি মেরামত করতে, শক্তি পুনরুদ্ধার করতে এবং পরের দিন আরও ভাল পারফর্ম করতে সহায়তা করে। পুষ্টিবিদ বলেন, “তবে শুধু এটি পান করলেই হবে না। একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমের অভ্যাস করতে হবে। ঘুমোনোর আগে স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল-কম্পিউটার ব্যবহারের সময় কমানোর মতো স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস রাখতেই হবে। এ সবের বিকল্প হিসেবে চেরি জুসকে দেখা উচিত নয়।”
টার্ট চেরি জুস কি কেবল ক্রীড়াবিদদের জন্যই উপকারী, না কি অন্যরা এর সুফল পেতে পারেন?
শরীরে কোনও রকম দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) সমস্যা না থাকলে এই রস খাওয়া যেতেই পারে। তবে ক্রীড়াবিদ বা যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের ক্ষেত্রে এর সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং তাদের দ্রুত শারীরিক শক্তি পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনও পড়ে। অমরিন বলেন, “যাঁরা কায়িক শ্রমহীন বা অলস জীবনযাপন করেন, তাঁদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মান যদি ভাল না হয়, তবে কেবল চেরি জুস খেলে তেমন কোনও উপকার হবে না।”
কী কী বিষয় নজর রাখা প্রয়োজন?
বাজারচলতি প্যাকেটজাত চেরি জুসে বাড়তি চিনি মেশানো থাকতে পারে। তা নিয়মিত পান করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে ঢুকতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রাও হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই যাঁদের ডায়াবিটিস আছে বা যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের সতর্ক থাকতে হবে।
প্যাকটজাত কোনও ফলের রস কেনার আগে পণ্যের গায়ে থাকা লেবেলটি ভাল ভাবে পড়া উচিত। বাড়তি চিনি ছাড়া পণ্য বেছে নেওয়াই ভাল। কতটা খাওয়া হচ্ছে, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শুধু প্যাকেটজাত রসই নয়, প্রাকৃতিক ফলের রসও পরিমিত মাত্রায় না খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে।