খাদ্যরসিকেরা বলবেন, ঘি-মাখন বা মাছ-মাংস-ডিম, যতটা মন চাইবে খেয়ে ফেলা ভাল। কারও কাছে আবার ভাল খাবার মানে হল স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, সেখানে চর্ব-চোষ্যের জায়গাই নেই। খেতে ভালবাসলে ডায়েট ঠিক করা যায় না। এক বেলা উপোস দিয়ে বা আধপেটা খেয়ে ওজন কমানোর পন্থা যতই সরস মনে হোক না কেন, তাতে ইতি টানতে হয় কিছু দিন পরেই। কিটো, মেডিটেরিনিয়ান, ভিগান, ড্যাশ ডায়েটের মতো ওজন কমানোর যে সব ডায়েটের নাম হালে শোনা যায়, সেগুলি যেমন ভাল, তেমনই সঠিক ভাবে করতে না পারলে পুষ্টির ঘাটতিও থেকে যায়। তাই সবই খান, পরিমাণ মেনে। এমন এক ধরনের ডায়েট আছে, যেখানে পছন্দের খাবার খেয়েও ওজন কমিয়ে ফেলা যায়।
ডুকান ও ফ্লেক্সিটেরিয়ানের মতো ডায়েটে পছন্দের খাবার খেয়েও ওজন কমানো যায়। এমন ডায়েটে প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডিম বেশি খেতে হয়। ভাত-রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট কম খেতে হয়। আর খেতে হয় ঘি, মাখনের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। থালার অর্ধেকটা ভরাতে হবে শাকসব্জি দিয়ে, বাকিটা মাছ-মাংস বা ডিম দিয়ে। ভাত বা রুটির ছিটেফোঁটাও থাকবে না। আর থাকবে না কোনও রকম মিষ্টি বা চিনি দেওয়া খাবার বা মিষ্টি জাতীয় পানীয়।
কী কী খাবেন ও কী নয়?
উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মধ্যে নানা রকম ডাল, মটরশুঁটি, সয়াবিন, ছানা, পনির, টোফু খাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
মরসুমি সব ধরনের সব্জি তো খাবেনই, নানা রকম ফলও খেতে হবে নিয়ম করে।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাওয়া যাবে এই ডায়েটে। চাইলেই ঘি, মাখন বা চিজ় খেতে পারেন। তবে সবই পরিমিত মাত্রায়। দিনে দু’চামচের মতো ঘি খেতেই পারেন। মাংসের সঙ্গে হালকা চিজ়ও চলবে।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের জন্য আখরোট, নানা রকম বাদাম, চিয়াবীজ, তিসি ও সূর্যমুখীর বীজ, অলিভ অয়েল খেতে পারেন।
তবে প্রোটিন খাওয়ার ব্যাপারেও কিছু নিয়ম মানতে হবে। লিন ফ্যাট (চর্বি ছাড়া মাংস)-এর বদলে যদি বেশি চর্বিযুক্ত মাংস, রেড মিট বা তৈলাক্ত মাছ খেতে থাকেন, তা হলে ক্যালোরি পোড়ার চেয়ে বরং বৃদ্ধি পাবে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে সস্ বা নানা রকম ড্রেসিং (বারবিকিউ সস, মেয়োনিজ় ইত্যাদি) বা টপিংসে প্রচুর পরিমাণে চিনি ব্যবহার করলে, তার থেকেও ক্যালোরি চড়চড় করে বৃদ্ধি পাবে।
প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত মাংস, প্যাকেটজাত ফলের রস ও জাঙ্ক ফুড খাওয়া চলবে না। বাইরের খাবার পুরোপুরি বর্জন করতে হবে।
ফাইবার সমৃদ্ধ এবং কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় নিয়মিত এমন ডায়েট অনুসরণে হজমশক্তি বাড়বে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে যাবে।