সারা দিনের খাবারের মধ্যে সবচেয়ে জরুরি নাকি প্রাতরাশ। সকালে পেটভর্তি খাবার খাওয়ার পরামর্শই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু মুশকিল হল, সবার শরীর এক মন্ত্রে সাড়া দেয় না। এক এক জনের জন্য এক এক রকমের নিয়ম কার্যকর। তা প্রমাণ করে দিলেন ‘রোজা’ ছবির নায়িকা মধু শাহ।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন করায় তিনি সাফ জানিয়েছেন, সকালে তিনি জলখাবার খান না। সকলের জন্য হয়তো তা উপকারী নয়, কিন্তু মধুর ক্ষেত্রে এই নিয়মই কাজ করে। তবে তার বদলে কয়েকটি মশলায় ভরসা রেখেছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি, তাঁর মধ্যাহ্নভোজে পাতে কী কী থাকে, তা-ও জানিয়েছেন।
মধু শাহ কেমন খাবার খেতে পছন্দ করেন? ছবি: সংগৃহীত
অভিনয় পেশায় থাকাকালীন সকালে উঠে কেবল লেবুর জল খেতেন। তবে এখন কিছু কিছু বদল এনেছেন সকালের রুটিনে। ৫৭ বছরের অভিনেত্রী এখন সকালে উঠে বিশেষ পানীয়ে চুমুক দেন। দারচিনি ও আদা মেশানো জল ফুটিয়ে নিয়ে সেটিকে ঠান্ডা করে তাতে লেবু আর মধু মিশিয়ে খেয়ে নেন। তার পর গোটাকয়েক আমন্ড খেয়ে শারীরচর্চা করেন মধু। এ বার একখানি কলা খেয়ে পেট ভরিয়ে নেন।
তবে মধ্যাহ্নভোজে সাদামাঠা ভারতীয় ঘরোয়া খাবারই চাই মধুর। সাধারণত দু’টি রুটি, পছন্দের তরকারি আর এক বাটি দই খান তিনি। তবে শুরুতে ২-৩ চামচ ঘি খেতেই হবে তাঁকে। অভিনেত্রীর কথায় জানা যায়, অনেকেই ঘি শুনে অবাক হন, কারণ মেদ বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত সেটি। কিন্তু মধুর মতে, ঘি তিনি বড়ই ভালবাসেন, তাই প্রতি দিন এইটুকু ঘি না হলে চলে না।
সকালে জলখাবার না খেলে সবারই সমস্যা হবে, এমন নয়। কেউ যদি পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার দিনের অন্য সময়েও খেয়ে নেন এবং তাঁর শরীর সেই অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নেয়, তা হলে অনেক ক্ষেত্রে অসুবিধা না-ও হতে পারে। তবে যাঁদের ডায়াবিটিস, অম্বল, গ্যাস রয়েছে বা অন্তঃসত্ত্বা এবং অন্য কোনও বিশেষ শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা উপযুক্ত নয়। তাই এই অভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ঘি নিয়েও অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। পুষ্টিবিদেদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ঘি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। এতে কিছু স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন থাকে। তবে অতিরিক্ত ঘি খেলে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে খাওয়াই শ্রেয়, বিশেষ করে যাঁদের ওজন বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি কোনও একটি খাবার নয়, বরং সমগ্র জীবনযাপন। নিয়মিত শারীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম আহার এবং নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে খাবার বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।