শরীর সুস্থ রাখতে রোজকার খাদ্যতালিকায় রুটি রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। তবে ডায়াবিটিস থাকলে ভাত ব রুটি পরিমিত পরিমাণেই খেতে বলা হয়। বিশেষ করে যাঁদের সুগার অনিয়ন্ত্রিত, তাঁদের ক্ষেত্রে শর্কর জাতীয় খাবার খেতে নিষেধই করা হয়। তবে যদি ভাত বা রুটি বাদ দিতে না পারেন, তা হলে খাওয়ার ধরন বদলাতে হবে। যেমন গমের আটার রুটি না খেয়ে এমন ভাবে খান যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। আবার খেতেও সুস্বাদু হবে।
রাগি ও মেথি শাকের রুটি
রগি বা মিলেট প্রোটিন, ফাইবারে ভরপুর। রগি খেলে সুগার তো বাড়বেই না, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যাবে। সুগার যদি খুব বেশি থাকে তা হলে, রাগির আটার সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন মেথি শাক। মেথি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে রাগির আটা, মেথি শাক, জোয়ান ও নুন ভাল করে মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প গরম জল দিয়ে নরম করে মেখে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এর পর মাঝারি আকারের লেচি কেটে সামান্য শুকনো আটা ছড়িয়ে হালকা হাতে বেলে নিন। তাওয়ায় এপিঠ-ওপিঠ সেঁকে নিন।
আরও পড়ুন:
জোয়ার ও পালং শাকের রুটি
জোয়ারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গমের চেয়েও কম। এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে না। তা ছাড়া জোয়ার ও পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, আয়রন, ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা সুগারের রোগীদের জন্য ভাল। জোয়ারের আটার সঙ্গে কুচোনো পালং শাক, জোয়ান এবং রসুনবাটা মেশান। ভাল করে মেখে লেচি কেটে হালকা হাতে বেলুন। কম আঁচে তাওয়ায় সেঁকে নিন।
ওট্স ও সব্জির রুটি
দেড় কাপ ওট্স মিক্সিতে দিয়ে গুঁড়ো করে নিন। তৈরি হয়ে যাবে ওট্সের আটা। তা ভাল ভাবে মেখে বানিয়ে নেওয়া যায় স্বাস্থ্যকর রুটি। চাইলে ওট্সের আটার সঙ্গে মিহি করে গ্রেট করা গাজর, বিন মিশিয়ে নিতে পারেন। এই আটা মাখার সময়ে শুধু খেয়াল রাখুন যাতে গরম জল ব্যবহার করা হয়। আর এক ফোঁটা তেলও দিয়ে দিন। তাতে রুটি নরম হবে। বাকি পদ্ধতি একই। আটার রুটি যেমন বানান, তেমন। পছন্দের সব্জির সঙ্গে নিশ্চিন্তে গরম রুটি খেয়ে নিন।