পায়ে হঠাৎ আঘাত লাগলে প্রথমেই জুতো খুলে জায়গাটা দেখে নেওয়া খুব স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু নৃত্যশিল্পী শক্তি মোহনের পরামর্শ, চোট লাগার পর সঙ্গে সঙ্গে জুতো না খুলে আগে পা-কে বিশ্রাম দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, জুতো খুলে ফেললে চোট পাওয়া পা দ্রুত ফুলে যেতে পারে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি একটু অন্য রকম। জুতো খুললেই পা ভয়ঙ্কর ভাবে ফুলে উঠবে— এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে চোটের পর অপ্রয়োজনে পা নাড়াচাড়া করলে ব্যথা বা চোট আরও বাড়তে পারে।
চোট লাগার পর সেই জায়গায় ফোলা বা প্রদাহ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পায়ে চোট লাগলে অল্প সময়ের মধ্যেই ফুলে যাওয়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। এই অবস্থায় জুতো খুলতে গিয়ে যদি পা বেশি নাড়ানো হয়, তা হলে ব্যথা বাড়তে পারে এবং হাড় ভাঙা বা নরম টিস্যুর চোট থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই কখনওসখনও জুতো সাময়িক ভাবে পা-কে স্থির রাখতেও সাহায্য করে, সে ক্ষেত্রে পায়ের উপর চাপ কম পড়ে।
আরও পড়ুন:
তবে তার মানে এই নয় যে, যে কোনও পরিস্থিতিতে জুতো পায়ে রেখেই থাকতে হবে। জুতো যদি খুব আঁটোসাঁটো হয়ে যায়, রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি করে বা প্রচণ্ড অস্বস্তি হয়, তা হলে সেটি সাবধানে খুলতে হতে পারে। মূল কথা হল, চোট লাগার পর পা অযথা নাড়াচাড়া না করা। তাই সতর্কতা অবলম্বন করে জুতো খোলা উচিত। টেনেহিঁচড়ে জুতো খুললে বা পা অতিরিক্ত নাড়াচাড়া করলে পায়ের চোটের জায়গাটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তা হলে চোট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন?
· প্রথমেই সে-ই পায়ে ভর দিয়ে হাঁটা বন্ধ করুন।
· পা-কে বিশ্রাম দিন, অকারণে নড়াচড়া বন্ধ করে দিন।
· ফুলে যাওয়া আটকাতে অল্প উঁচু করে রাখুন পা-টি।
· কাপ়ড়ে মুড়িয়ে বরফের সেঁক প্রয়োগ করতে হবে পায়ে। ১৫-২০ মিনিট রেখে দিতে হবে।
· যদি রক্তপাত ঘটে থাকে, তা হলে ড্রেসিং করে রাখতে হবে পরিষ্কার ভাবে।
· ভেঙে গিয়েছে বলে মনে হলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।