সাধারণত শীতকালেই গরম জলে স্নান করেন অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু বর্ষায় যখন বাইরে স্যাঁতসেঁতে আর আর্দ্র আবহাওয়া, তখনও কি গরম জলে স্নান করা উচিত? তাতে কি কোনও উপকার হতে পারে? বর্ষাকালের আবহাওয়া একটু বেশিই খামখেয়ালি হয়। এই প্রবল বৃষ্টিতে শীতবোধ, তো খানিকক্ষণ পরেই ভ্যাপসা গরমে ঘামে ভিজে যাওয়া শরীর। এমন আবহাওয়ায় সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন অফিসে বেরোনোর জন্য স্নান করেন বা সারাদিনের ক্লান্তিশেষে বাড়ি ফিরে যখন তরতাজা হওয়ার জন্য গায়ে জল দেন, তখন কেমন জল বেছে নেবেন? দিল্লির চিকিৎসক কাসিস কালরার মতে, বর্ষায় অতিরিক্ত গরম বা কনকনে ঠান্ডা—এই উভয় তাপমাত্রার জলই এড়িয়ে চলা ভাল।
গরম জলের সুবিধা ও অসুবিধা
বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরার পর গরম জল আরামদায়ক হলেও, অতিরিক্ত গরম জল ত্বকের প্রাকৃতিক তেলা ভাব ও আর্দ্রতা কেড়ে নিতে পারে। ত্বকের প্রতিরক্ষা স্তরকে দুর্বল করে লালচে ভাব, চুলকানি এবং একজ়িমার মতো সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এ ছাড়া চুলের কিউটিকেল খুলে গিয়ে চুল অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে চুল পড়ার সমস্যা।
ঠান্ডা জলের সুবিধা ও অসুবিধা
ভ্যাপসা গরমে ঠান্ডা জল শরীরে তাৎক্ষণিক সতেজতা ভাব আনে ঠিকই কিন্তু বর্ষায় হুট করে ঠান্ডা জল মাথায় ঢাললে শরীরের তাপমাত্রা একধাক্কায় অনেকটা কমে যেতে পারে, যা সাময়িক ভাবে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। তা ছাড়া, ঠান্ডা জলে শরীরে জমে থাকা ঘাম, তেল ও ময়লা পুরোপুরি পরিষ্কার করতে পারে না, ফলে দেহে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ ও ব্রণের সমস্যা বাড়তে পারে।
সঠিক সমাধান কোনটি?
ঈষদুষ্ণ জলই এ ক্ষেত্রে সেরা সমাধান বলে মনে করছেন চিকিৎসক কালরা। তিনি বলছেন, জলের তাপমাত্রা হবে স্বাভাবিকের থেকে সামান্য বেশি।
কেন এটি ভাল, তার কারণ ব্যাখ্যা করে চিকিৎসক বলেছেন, ‘‘ঈষদুষ্ণ জল ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রেখেই জমে থাকা তেল, ঘাম ও জীবাণু পুরোপুরি ধুয়ে ফেলে। এটি যেমন ত্বককে শুষ্ক ভাব ও অ্যালার্জির হাত থেকে রক্ষা করে, তেমনই রোগপ্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।’’
বর্ষায় স্নানের কিছু জরুরি নিয়ম
সময়: স্নানের সময় ১০ মিনিটের মধ্যে সীমিত রাখুন, যাতে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক না হয়ে যায়।
বৃষ্টিতে ভিজলে: বৃষ্টিতে ভিজলে বাড়ি ফিরে বিলম্ব না করে হালকা গরম জলে স্নান করে নেওয়া উচিত।
ময়েশ্চারাইজ়ার: স্নানের পর ত্বক হালকা ভেজা থাকতে থাকতেই কোনও ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে নিন।