Advertisement
E-Paper

‘ট্র্যানসিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক’ হয়েছিল গায়ক রথীজিতের! কী এই রোগ? কোন উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন?

সম্প্রতি গায়ক-সুরকার রথীজিৎ ভট্টাচার্য একটি পোস্ট করে তাঁর অনুরাগীদের জানান যে তাঁর ‘ট্র্যানসিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক’ বা ‘টিআইএ’ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্ট্রোকের মতো লক্ষণগুলি দেখা যায় বলে চিকিৎসকেরা একে ‘মিনি স্ট্রোক’ও বলে থাকেন। কোন লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ অগস্ট ২০২৬ ১৫:১৪
‘ট্র্যানসিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক’-এর ঝুঁকি কাদের বেশি?

‘ট্র্যানসিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক’-এর ঝুঁকি কাদের বেশি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনে অসংযম, অতিরিক্ত কাজের চাপ, ঘুম ঠিকঠাক না হওয়ার কারণে এখন অল্পবয়সিদের মধ্যেও বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি। সম্প্রতি গায়ক-সুরকার রথীজিৎ ভট্টাচার্য একটি পোস্ট করে তাঁর অনুরাগীদের জানান যে তাঁর ‘ট্র্যানসিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক’ বা ‘টিআইএ’ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্ট্রোকের মতো লক্ষণগুলি দেখা যায় বলে চিকিৎসকেরা একে ‘মিনি স্ট্রোক’ও বলে থাকেন। রথীজিৎ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

কাজকর্ম করার জন্য শরীরের প্রতিটি কোষের অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রয়োজন হয়। মস্তিষ্কের কোষেরও তাই। মস্তিষ্কের কোষে যদি অক্সিজেন সঠিক সময়ে না পৌঁছোয়, তখনই বাধে গোলমাল। আর যদি কোনও কারণে মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনী সরু হয়ে গিয়ে সেখানে ডেলা বাঁধার মতো রক্ত আটকে যায়, তখন মস্তিষ্কের কোষগুলি নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকে। সেগুলি আর সঙ্কেত পরিবহণ করতে পারে না। তখন স্ট্রোক হানা দেয়। অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের কুঠুরিগুলির সক্রিয়তা কমতে থাকে। আর তাতেই বাড়ে ‘মিনি স্ট্রোক’-এর ঝুঁকি।

এই বিষয়ে চিকিৎসক শুভম সাহার মত, স্ট্রোকের লক্ষণ শরীর জানান দেয় আগেই। সচেতনতার অভাবে তা বুঝতে পারেন না বেশির ভাগই। কী কী সেই লক্ষণ? চিকিৎসক বলছেন, “কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে জিভ জড়িয়ে গেল বা অবশ হয়ে গেল, হাত তুলে বোঝানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দেখলেন, হাত তোলাও অসম্ভব। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার সব আগের মতোই স্বাভাবিক। তাই সে যাত্রায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা মাথাতেই এল না। তার পরেই হয়তো কয়েক মাস পরে আচমকা বড়সড় স্ট্রোকের ধাক্কায় একেবারে যমে-মানুষে টানাটানি। তখন শরীরের এক দিক পক্ষাঘাতগ্রস্তও হয়ে যেতে পারে।”

আচমকাই দুর্বল বোধ করা, হাঁটাচলার সময়ে শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা, কয়েক মিনিট কথা জড়িয়ে যাওয়া, হাত বা পা অসাড় হয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া, অথবা চোখে অন্ধকার দেখার মতো লক্ষণ ‘ট্র্যানসিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক’ বা ‘টিআইএ’-এর উপসর্গ হতে পারে। এই সময়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ না নিলে কিছু দিনের মধ্যেই বড়সড় বিপদ ঘটে যেতে পারে। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখলেই যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। স্ট্রোক হওয়ার পর সাড়ে চার ঘণ্টা হল 'গোল্ডেন আওয়ার'। এর মধ্যে ইন্টারভেনশন পদ্ধতির সাহায্যে মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করে দিতে পারলে রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সময় লাগে না।

Stroke

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy