ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে কী খেলে সারাদিন চনমনে থাকবেন, আবার মেদও ঝরবে— এই নিয়ে চিন্তা সবার। কারও পছন্দ অঙ্কুরিত সবুজ মুগ, কেউ খাচ্ছেন অঙ্কুরিত কালো ছোলা। এই দু’টি খাবারই স্বাস্থ্যকর, কিন্তু কার কোনটা খেলে শরীরের উপকার বেশি হবে, সেটা জানা দরকার।
বীজ থেকে অঙ্কুর বেরোলেই তার পুষ্টিগুণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এর মধ্যে থাকা সক্রিয় উৎসেচক যা হজম সহজ করে, পুষ্টির শোষণ বাড়ায়। তাই ফিটনেস নিয়ে যাঁরা সচেতন তাঁদের কাছে খালি পেটে অঙ্কুরিত ছোলা কিংবা মুগ ডাল খাওয়া ভাল। কিন্তু যাঁরা মেদ ঝরাতে চাইছেন তাঁরা কোনটা খাবেন, সেই প্রশ্ন থাকে অনেকেরই মনে।
মুগ ডালের অঙ্কুর একদম হালকা, পেটের জন্য আরামদায়ক। ভিটামিন এ, বি, সি, ই আর আয়রনে ভরপুর। শরীরে শক্তি জোগায়, আবার পেট পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে। যাঁদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য আদর্শ। অন্য দিকে, কালো ছোলা মানে বেশি শক্তির জোগান। অঙ্কুরিত হলে এর উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আর আয়রন আরও বেড়ে যায়। যাঁরা জিম করেন, ওয়েট ট্রেনিং করেন, তাঁদের জন্য পোস্ট-ওয়ার্কআউট মিল হিসেবে এর জুড়ি নেই।
প্রোটিনের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?
১০০ গ্রাম হিসাবে ধরলে কালো ছোলার অঙ্কুরে প্রোটিন থাকে ৭-৯ গ্রাম, আর মুগের অঙ্কুরে ৫-৬ গ্রাম। তবে মুগে ফাইবারের পরিমাণ বেশি, তাই ওইদিকটিও বিবেচনা করা জরুরি। ওজন কমাতে চাইলে দুটোই ভাল, কিন্তু ফ্যাট ঝরাতে মুগ ডাল এগিয়ে। ক্যালোরি কম, ফাইবার বেশি— ফলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে, ভুলভাল খাওয়ার ইচ্ছে কমে।
ভেজানো বা অঙ্কুরিত কাঁচা ছোলা বা ডালের মতো খাবার বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়ার আঁতুড়ঘর। স্যালমোনেল্লা, ই-কোলাইয়ের মতো ব্যাক্টেরিয়ার কলকাঠিতে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই খুব সাবধানতা মেনেই এগুলি খাওয়া উচিত। অঙ্কুরিত দানাশস্য কাঁচা খাওয়ার আগে খুব ভাল করে ধোয়া উচিত। ফ্রিজে খুব বেশি দিন রেখে অঙ্কুরিত দানাশস্য না খাওয়াই ভাল। ফ্রিজে রাখলেও বায়ুনিরোধী পাত্রে রাখুন, তবে এক দিনের বেশি নয়।
অঙ্কুরিত দানাশস্য কি সবাই খেতে পারেন?
কিছু কিছু রোগ থাকলে অঙ্কুরিত ছোলা বা মুগ রোজের ডায়েটে না রাখাই ভাল। অনেকের ক্ষেত্রেই কাঁচা অঙ্কুরিত দানাশস্য খেলে হজমের সমস্যা শুরু হয়। এই খাবার সবাই হজম করতে পারেন না। তাই সারাবছর ধরে যাঁরা হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই খাবার না খাওয়াই ভাল। কিডনির রোগীদের জন্যও অঙ্কুরিত দানাশস্য খাওয়া ভাল নয়, এতে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। গাউট কিংবা গেঁটে বাতের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের রোজের ডায়েটেও এই খাবার না রাখাই ভাল।