Advertisement
E-Paper

ঘুমের আগে ‘অস্বাস্থ্যকর’ খাবারের আকাঙ্ক্ষা বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন অনাহতের! কী প্রভাব পড়ে তাতে

খেলোয়াড় মানেই কঠোর ডায়েট, ভাজাভুজি-মিষ্টি থেকে দূরে এবং প্রতিটি খাবারের নিখুঁত হিসাব— এমন ধারণাই প্রচলিত। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করলেন অনাহত সিংহ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:২৪
স্কোয়াশ খেলোয়াড় অনাহত সিংহ।

স্কোয়াশ খেলোয়াড় অনাহত সিংহ। ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের প্রথম খেলোয়াড় হিসাবে স্কোয়াশে বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ১৮ বছরের অনাহত সিংহ। খেলোয়াড় মানেই কঠোর ডায়েট, ভাজাভুজি-মিষ্টি থেকে দূরে এবং প্রতিটি খাবারের নিখুঁত হিসাব— এমন ধারণাই প্রচলিত। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করলেন অনাহত। তাঁর রোজের রুটিনে এমন এক অভ্যাস রয়েছে, যা সচরাচর ক্রীড়াবিদদের খাদ্যাভ্যাসে দেখা যায় না।

স্কোয়াশে বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন।

স্কোয়াশে বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে অনাহত জানালেন, ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রতিদিন তিনি ছ’টি টুকরো চকোলেট খান। বহু বছর ধরে এই অভ্যাস তাঁর সঙ্গী, এমনকি পুষ্টিবিদ পরিমাণ কমিয়ে পাঁচ বা চার টুকরো করার পরামর্শ দিলেও নিজের এই অভ্যাস বদলাতে রাজি নন তিনি। মায়ের সঙ্গে এই নিয়ে তর্কাতর্কিও হয়। কিন্তু নির্দেশ মানতে চান না অনাহত। তাঁর কথায়, ‘‘মা বারণ করায় সরাসরি পুষ্টিবিদকে ফোন করে নালিশ করি। তিনি পরিমাণ কমানোর কথাও বলেছিলেন। কিন্তু আমি মানিনি। আমি বলেছি, আমার রুটিনের যা খুশি বদলে ফেলুন, এটা বদলাবেন না।’’

এই অভ্যাস কি স্বাস্থ্যকর?

এক জন খেলোয়াড়ের খাদ্যতালিকা তাঁর প্রশিক্ষণ, শক্তির চাহিদা এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি হয়। চকোলেট থেকে পাওয়া কিছু কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালোরি তাঁর মোট শক্তির চাহিদার অংশ হতে পারে। ফলে তাঁর একটি অভ্যাস দেখে সেটিকে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে সুস্থ ও সক্রিয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে রাতে অল্প পরিমাণ চকোলেট খাওয়া ক্ষতিকর হবেই, তার কোনও মানে নেই।

ঘুমোনোর আগে চকোলেট খাওয়ার অভ্যাস অনাহতের।

ঘুমোনোর আগে চকোলেট খাওয়ার অভ্যাস অনাহতের। ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু এ ক্ষেত্রে চকোলেটের ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডার্ক চকোলেট, দুধের চকোলেট কিংবা অতিরিক্ত চিনি ও পুরভরা চকোলেট— সবগুলির পুষ্টিকর উপাদান এক নয়। কোকোর পরিমাণের সঙ্গে চকোলেটে থাকা ক্যাফিনের পরিমাণও বদলায়। শরীরে এক একটি ভিন্ন ভাবে কাজ করে। তাই ৬ টুকরো চকোলেট শুনে শুধু সংখ্যাটা বিচার করলে হবে না। টুকরোগুলি কত বড়, কী ধরনের চকোলেট এবং সারাদিনে তিনি আর কী খাচ্ছেন— সবই বিবেচ্য। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি সম্ভবত দুধের চকোলেটের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

চকোলেটের অন্যতম সমস্যা হল এতে স্বাভাবিক ভাবেই ক্যাফিন ও অন্যান্য উদ্দীপক উপাদান থাকতে পারে। ক্যাফিনের কারণে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের মান খারাপ হতে পারে। ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রেও ঘুমের আগে ক্যাফিন এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ পর্যাপ্ত ও ভাল ঘুম প্রশিক্ষণের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাতে অল্প চকোলেট খাওয়ার পর যদি ঘুম ঠিক থাকে, হজমে সমস্যা না হয় এবং সারাদিনের খাদ্যতালিকায় সেটি সহজেই জায়গা পায়, তা হলে মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণ চকোলেট খাওয়া নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। পুষ্টিবিদেদের পরামর্শ, চকোলেটকে সুষম খাদ্যতালিকার ছোট অংশ হিসাবে রাখা যেতে পারে, যদি তা ঘুম, ওজন বা হজমে সমস্যা না তৈরি করে।

ডার্ক চকোলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও পলিফেনল রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট ভাল রাখে, এর থিওব্রোমিন তাৎক্ষণিক মেজাজ ঠিক করে ও শক্তি বাড়ায় এবং এতে থাকা আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও জ়িঙ্ক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে রোজ পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকোলেট খেলে বরং উপকারই হবে। কিন্তু দুধের চকোলেটের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।

Anahat Singh Chocolates

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy