সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে কী খাওয়া যায়, এটা অনেকের কাছেই একটা বড় প্রশ্ন। কেউ জিরে, মেথি ভেজানো জল কিংবা গরমজলে লেবু দিয়ে বা চিয়া সিডস ভিজিয়ে খান। তাঁদের বিশ্বাস, এতে মেদ কমবে, ইমিউনিটি বাড়বে। এ ধারণাগুলোর কি বাস্তব ভিত্তি আছে? বিষয়টা ব্যাখ্যা করে বোঝালেন পুষ্টিবিদ সুবর্ণা রায়চৌধুরী। তাঁর কথায়, “অনেকেই আগের রাতে মৌরি, মেথি, জোয়ান ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে উঠে সেটি খান। এতে খারাপ কিছু নেই, প্রত্যেকটারই গুণ আছে, কিন্তু রোজ একই জিনিস খাওয়ার দরকার নেই। রোজ সকালে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার খাওয়ারও প্রয়োজন নেই। বরং সকালবেলা একটা ব্যালান্স ব্রেকফাস্ট বেশি জরুরি।”
জিরে, জোয়ান, মৌরি, মেথির পুষ্টিগুণ কম নয়। অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস আছে, হজমেও সহায়ক। রেস্তরাঁয় খাওয়ার পরে মৌরি দেওয়ার যে চল রয়েছে, তা আসলে হজমের জন্য। “কিন্তু রোজ সকালে ওগুলো ভেজানো জল খেতে হবে এমন নয়। এটা যদি দুপুরে খাবারের আগে বা ব্রেকফাস্টের পরে খাওয়া হয়, তা হলেও একই রকম কাজে দেবে,” বললেন সুর্বণা। মেদ কমানোর জন্য গরমজলে লেবু দিয়ে খাওয়ার ধারণা ভ্রান্ত বললেন পুষ্টিবিদ। জানালেন, লেবু গরমজলে দিলে তার পুষ্টিগুণটাই নষ্ট হয়ে যায়। বরং সাধারণ জলের মধ্যে লেবু দিয়ে খাওয়া যায়। ভাতের পাতে লেবু খাওয়াও উপকারী।
চিয়া সিডস ভেজানো জল খাওয়া ভীষণ উপকারী, এমনটাও বলা হয়। সুবর্ণা বলছেন, “চিয়া সিডসে ভাল পরিমাণে ওমেগা থ্রি রয়েছে, ফাইবারও আছে। সকালে চিয়া সিডস ভেজানো জল খাওয়ার বদলে ব্রেকফাস্টের সঙ্গেই এটি খাওয়া যায়। এক চা-চামচ চিয়া সিডস দুধ-কর্নফ্লেক্সের মধ্যে দিয়ে দেওয়া যায়, দই-ওটস-চিয়া সিডস মিশিয়ে খাওয়া যায়। সবেতেই একই ফল হবে।”
যে বিষয়টায় ডায়াটিশিয়ান সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন তা হল, নানা ধরনের জল, ডিটক্স ওয়াটার খেতে গিয়ে ব্রেকফাস্টে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। সেটা করলে আদপে কাজ হবে না। কেউ যদি সকালে উঠে মেথি-মৌরির জল খান, তার পরপরই প্রাতঃরাশ করে নিন। মাঝে যেন তেমন বিরতি না থাকে। “চা-বিস্কিট খেয়েও দিন শুরু করা যায়। গ্রিন-ব্ল্যাক টি কিংবা দুধ চা-ও খেতে পারেন, যদি না ল্যাকটোজ় ইনটলারেন্স থাকে। আসল হল, ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থেকে তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট করে নিতে হবে,” বললেন সুবর্ণা। জোর দিলেন, সকালের প্রথম মিলে যেন কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন— তিনটে উপাদানই থাকে, তার উপরে।