Advertisement
E-Paper

দেশে স্ট্রোক-আক্রান্ত ৭ জনের মধ্যে ১ জন ১৮-৪৪ বয়সের মধ্যে! ৭টি ভুলেই বিপদ বাড়ছে মস্তিষ্কের

হার্ট অ্যাটাক নিয়ে মানুষ যতটা সতর্ক, স্ট্রোক নিয়ে ততটাই উদাসীন। অথচ গত এক দশকে ভারতে স্ট্রোকের রোগী দ্বিগুণ হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, রোজকার ৭টি ছোট অভ্যাস বদলালেই স্ট্রোক আটকানো সম্ভব।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৪:২৫
অল্পবয়সে স্ট্রোক থেকে বাঁচতে মানতে হবে ৭ নিয়ম।

অল্পবয়সে স্ট্রোক থেকে বাঁচতে মানতে হবে ৭ নিয়ম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হার্ট অ্যাটাকের নাম শুনলেই আমরা আঁতকে উঠি, বুকে হাত দিয়ে বসে পড়ি। কিন্তু আড়ালে আরও এক নীরব ঘাতক প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় কেড়ে নিচ্ছে হাজার জীবন, কাউকে বা পঙ্গু করে দিচ্ছে সারাজীবনের জন্য। তার নাম স্ট্রোক। চোখের পলকে ঘটে যায় বিপদ। এইমাত্র যে মানুষটা কথা বলছিলেন, হাঁটছিলেন, হঠাৎ করেই তার মুখ বেঁকে যায়, হাত-পা অবশ হয়ে যায়। সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছোলে মৃত্যু, অনেক সময় প্রাণ বাঁচলেও থেকে যায় পক্ষাঘাতের ঝুঁকি।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল এফ মেডিক্যাল রিসার্চ-এর (আইসিএমআর) সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। সমীক্ষা বলছে, ভারতে প্রতি ৭ জন স্ট্রোক আক্রান্তের মধ্যে ১ জনের বয়স ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ, আর পঞ্চাশ পেরিয়ে নয়, স্ট্রোক এখন থাবা বসাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও। চিকিৎসকের মতে, স্ট্রোক আটকানোর উপায় আছে। যদি ৩০-এর পর থেকে যাপনে কিছু পরিবর্তন আনা যায়, থা হলে কিন্তু স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে, এমনটাই বলছেন মুম্বই নিবাসী স্নায়ুরোগ চিকিৎসক দর্শন দোশী। ৭টি সহজ উপায়, যা মাথায় রাখলেই সুরক্ষিত থাকবে মস্তিষ্ক। জেনে নিন, কোন কোন অভ্যাসের কথা বললেন চিকিৎসক।

১. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন:

স্ট্রোকের প্রধান ‘ভিলেন’ হল উচ্চ রক্তচাপ। এর কোনও উপসর্গ থাকে না, তাই বহু মানুষ জানতেও পারেন না, ভিতরে ভিতরে বিপদ বাড়ছে। ডাঃ দোশীর পরামর্শ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারে নুন কম খেতে হবে, প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিয়মিত প্রেশার মাপতে হবে।

২. ডায়াবিটিস ও কোলেস্টেরলকে বশে রাখুন:

অতিরিক্ত শর্করা রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, আর কোলেস্টেরল ধমনীর ভিতরে চর্বি জমায়। এই দুইয়ে মিলেই ব্লকেজ তৈরি করে। ওষুধ, সঠিক ডায়েট ও ব্যায়ামের মাধ্যমে দুটোই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। না হলেই কিন্তু নীরবে বাড়বে স্ট্রোকের ঝুঁকি।

৩. বুক ধড়ফড় করাকে অবহেলা নয়:

অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনে হার্টের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধে। সেই জমাট বাঁধা রক্ত মস্তিষ্কে গিয়ে স্ট্রোক ঘটায়। এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্লাড থিনার খাওয়া জরুরি। তাই এ রকম উপসর্গ দেখলেই সতর্ক হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. রোজ হাঁটুন:

জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতেই হবে, এর কোনও মানে নেই। দিনে ৩০ মিনিট মাঝারি ব্যায়ামই যথেষ্ট। একটানা ৩০ মিনিট না পারলে ১৫ মিনিট করে দু’বারে ভাগ করে নিন। ধারাবাহিকতাই আসল। ব্যায়াম ভাল না লাগলে আধ ঘণ্টা হাঁটুন, তা-ও যথেষ্ট।

৫. মদ্যপান ও ধূমপানে লাগাম দিন:

যত দামি ওয়াইন খান বা বিয়ার খান না কেন, অতিরিক্ত অ্যালকোহল মানেই রক্তচাপ বাড়বে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়বে। এই অভ্যাসে সবার আগে রাশ টানতে হবে। অন্য দিকে, ধূমপান রক্তকে ঘন করে, ধমনীকে শক্ত করে তোলে। এটি স্ট্রোকের কারণগুলির মধ্যে একটি। ধূমপান ছাড়লেই স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।

৬. বুঝে খান:

খাবারই ঠিক করবে, আপনার রক্তনালি কতটা সচল থাকবে। অতিরিক্ত নুন, তেল বা চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। বেশি করে ফল, সব্জি, দানাশস্য ও লো-ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবার রাখুন ডায়েটে।

৭. ওজন কমান:

অতিরিক্ত ওজন মানেই ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপের মতো মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। ওজন কমালেও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটা কমে।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy