দেশের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভের রিপোর্ট (২০১৯-২১) বলছে, এ দেশে তিন থেকে পাঁচ বছর ও তার নীচের প্রায় ৬৭ থেকে ৭১ শতাংশ শিশু রক্তাল্পতায় ভুগছে। ২ বছরের নীচে যদি শিশুদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়, তা হলে মস্তিষ্কের বড় ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আয়রন শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য জরুরি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও কাজে আসে এই মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টটি।
কী দেখে বুঝবেন ,শিশুর শরীরে আয়রনের ঘাটতি হচ্ছে?
১) ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া: শিশুর চোখের নীচের দিক, হাত-পায়ের পাতা, নখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলে সতর্ক হোন।
২) অদ্ভুদ সব জিনিস খাওয়া: মাটি, দেওয়াল, পেনসিল, লোহার জিনিস এগুলি যদি বারে বারে নিজে থেকেই খেতে থাকে, তা হলেও সতর্ক হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন:
৩) ওজন কমা: হঠাৎ শিশু যদি খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয়, বা কোনও কারণ ছাড়াই শিশুর ওজন অত্যধিক কমে গেলে তা শরীরে আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।
শিশুদের কবে থেকে আয়রন সাপ্লিমেন্ট দিতে হবে?
সময়ের আগেই শিশুর জন্ম হয়ে গেলে অর্থাৎ প্রিটার্ম শিশুদের ১ মাস বয়স থেকেই আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। আর যে শিশু নির্দিষ্ট সময়ে জন্মেছে, তাদের ৪-৬ মাস বয়স থেকে আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়াতে হবে। সাধারণত ১ বছর বয়স অবধি এই সাপ্লিমেন্ট খাওয়ানো জরুরি। তবে শিশুর ডায়েটের উপরে নির্ভর করে যে, তার ১ বছরের পরেও আয়রন সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন আছে কি না। শিশুরোগ চিকিৎসক শিশুকে পর্যবেক্ষণের পরেই এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
খাওয়ানোর নিয়ম?
খালি পেটে এই সাপ্লিমেন্ট খাওয়ালে শরীরে আয়রনের শোষণ বেশি ভাল হয়। দুধের সঙ্গে এই সাপ্লিমেন্ট দেওয়া চলবে না। দুধ আয়রনের শোষণে বাধা দেয়। ক্যালশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা কোনও ভিটামিনের সঙ্গে আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া উচিত নয়। শিশুর জ্বর, সর্দিকাশি বা ডায়ারিয়া হলে আয়রন সাপ্লিমেন্ট বন্ধ রাখতে হবে।