‘‘মিষ্টি ছাড়া ভাবতেই পারি না। বেঁচে থাকতে হলে মিষ্টি আমার চাই-ই চাই।’’ কিন্তু সেই মিষ্টিপ্রেমী তামিল অভিনেতা আর্য যখন ডায়েট করেন, তখন চিনিযুক্ত খাবার প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে ফেলেন। যে অভিনেতা বলেন, ‘‘মিষ্টি ছাড়া জীবন নেই আমার’’, যে অভিনেতা প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ, নৈশভোজের পর এক বাটি কাস্টার্ড খান, তিনিই ডায়েট শুরু করলে এতটা সংযমী হয়ে ওঠেন!
চায়ের কাপে এক চামচ চিনি, দুপুরের মিষ্টি, সন্ধ্যার বিস্কুট কিংবা ঠান্ডা পানীয়। না বুঝেই দিনের শেষে শরীরে ঢুকে যায় অনেকটা অতিরিক্ত চিনি। অথচ এই ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবিটিস, হৃদ্রোগ এবং প্রদাহের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই অনেকেই এখন চিনি কমানোর পথে হাঁটছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন অভিনেতা আর্যও। তবে এ কথাও সঠিক, পুরোপুরি চিনি বা মিষ্টি বাদ দিতে পারেন না তিনি। ২০ শতাংশ মিষ্টি খুবই প্রয়োজন তাঁর জন্য। কৃচ্ছ্রসাধন না করে বরং খানিক খোলামেলা পরিসর পছন্দ তাঁর। সম্ভবত সেই কারণেই মাঝপথে ডায়েট বন্ধ করে দিতে হয় না তাঁকে।
মাঝেমধ্যে কোনও বিশেষ উপলক্ষে বা ইচ্ছে হলে তিনি সামান্য মিষ্টি খেয়েই থাকেন। তাঁর মতে, কঠোর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং ভারসাম্য বজায় রাখলেই দীর্ঘদিন এই অভ্যাস ধরে রাখা যেতে পারে। পুষ্টিবিদেদের বক্তব্য, এই ভাবনাই আসলে বাস্তবসম্মত। কারণ হঠাৎ চিনি একেবারে ছেড়ে দিলে অনেকেরই প্রবল খিদে, বিরক্তি বা মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যেতে পারে। ধীরে ধীরে চিনি বা মিষ্টি খাওয়া কমালে শরীর এবং স্বাদের অনুভূতি, দু’টিই নতুন অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
চিনি কমানো মানেই শুধু চায়ের কাপ থেকে চিনি বাদ দেওয়া নয়। প্যাকেটজাত ফলের রস, ঠান্ডা পানীয়, বিস্কুট, কেক, মিষ্টি দই, নানা ধরনের সস এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারেও প্রচুর চিনি লুকিয়ে থাকে। তাই বাজার থেকে কিছু কেনার আগে উপকরণের তালিকা পড়ে নেওয়ার অভ্যাস জরুরি। যদি প্রথম কয়েকটি উপাদানের মধ্যেই চিনির উল্লেখ থাকে, তবে সেই খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভাল। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা জাগলে এর বদলে খেজুর বা কোনও মিষ্টি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যকর।