বাজার থেকে ডিম কিনে আনলেন। দেখলেন তার গায়ে ছাপার অক্ষরে লেখা ‘অবিলম্বে আমাকে রেফ্রিজারেটরে রাখুন’। সেখানেই শেষ নয়, ওই ডিম কত দিন পর্যন্ত রান্না করে খাওয়া যাবে, কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে, সে সবও স্পষ্ট করে লেখা ডিমের খোলার গায়ে। লাল কিংবা কালো কালিতে। যেমনটা লেখা থাকে প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে।
ওই ডিম গরম জলে ফুটিয়ে সেদ্ধ করে তা শিশুদেরও খাওয়ানো হয়। অনেকেরই মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, ডিমে যে ছাপার কালি লাগছে, তার রাসায়নিক ডিমের ভিতরের অংশের কোনও ক্ষতি করছে না তো? ওই ডিম কি ছাপার হরফ না থাকা ডিমগুলির চেয়ে কম নিরাপদ?
খোসা থেকে কালির রাসায়নিক ভিতরে যেতে পারে কি?
ডিমের খোসাটি দেখতে নিরেট মনে হলেও এতে হাজার হাজার ছিদ্রপথ থাকে। তাই এমন মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে কালির রাসায়নিক ডিমের খোসা ভেদ করে ভিতরে যেতে পারে। তবে তা হয় না। ডিমের খোসার ঠিক নিচেই দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী মেমব্রেন বা পাতলা পর্দা থাকে। ওই পর্দা বাইরের কোনও ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া, ময়লা কিংবা কালির রাসায়নিক ডিমের সাদা অংশ বা কুসুম পর্যন্ত পৌঁছোতে দেয় না।
কী কালি ব্যবহার করা হয়?
ডিমের খোসার উপর উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ বা কোড নম্বর লেখার জন্য যে কালি ব্যবহার করা হয়, তা সাধারণ কোনও পেন বা মার্কারের কালি নয়। এটি সম্পূর্ণ ‘ফুড-গ্রেড’ কালি। সাধারণত উদ্ভিজ্জ উৎস, যেমন সয়াবিন বা অন্যান্য ভোজ্য তেল এবং প্রাকৃতিক রঙ মিশিয়ে ওই কালি তৈরি হয়। যদি কোনও ভাবে এই কালির সামান্য অংশ ডিমের ভিতরে চলেও যায়, তবুও তা শরীরের ক্ষতি করবে না।
কেন লেখা হয় ডিমের খোলায়?
বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে ডিমের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং ট্র্যাকিংয়ের জন্য খোসার উপর ছাপার হরফে সিল মারা বাধ্যতামূলক। এতে ডিমটি কোন খামারের, ডিম পাড়ার তারিখ, কতদিন পর্যন্ত তা খাওয়া নিরাপদ— সমস্ত তথ্য জানা যায়। ডিম থেকে অসুস্থতার ঝুঁকি কমে। ওই কালি ব্যবহারের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর অনুমতি দিয়েছে।
কী ভাবে ছাপ দেওয়া হয় ডিমে
মূলত ইঙ্কজেট প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছাপ দেওয়া হয়। খামার থেকে ডিম সংগ্রহের পর সেগুলিকে চলন্ত বেল্টের উপর সারিবদ্ধভাবে সাজানো হয়। ডিমগুলি যখন বেল্টের উপর দিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায়, তখন উপর থেকে সেন্সরের সাহায্যে নিখুঁত দূরত্ব বজায় রেখে অতি ক্ষুদ্র কালির ফোঁটা মাইক্রো ড্রপলেট স্প্রে করা হয়। যা ডিমের গায়ে পড়ার এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে শুকিয়ে যায়।