পা নিয়ে মহিলারা একটু বেশিই ভোগেন। কারও পায়ে ব্যথা, পা ফোলার সমস্যা তো কেউ পায়ের গঠন নিয়ে চিন্তিত। শরীরের অন্যান্য অংশের মেদ কমানো নিয়ে যতটা চিন্তা থাকে, পা নিয়ে ততটা থাকে না। অথচ পায়ের উপরেই শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে। পায়ের ব্যায়াম মানে কেবল ঊরু বা নিতম্বের মেদ কমানো নয়, পায়ের পেশির জোর বৃদ্ধি করাও জরুরি। না হলেই পায়ে ব্যথা, টান ধরা, গোড়ালিতে যন্ত্রণা হওয়া— এমন হরেক সমস্যা হতে থাকবে। পায়ের জন্য যে ধরনের ব্যায়াম করা হয় তার মধ্যে খুব কার্যকর হল লেগ-স্কোয়াট। এমন পাঁচ পদ্ধতি আছে যা নিয়ম করে অভ্যাস করলে, পায়ের গড়ন যেমন সুন্দর হবে, তেমনই পায়ের জোরও বাড়বে।
সুমো স্কোয়াট
জাপানি সুমো কুস্তিগীরদের বসার ভঙ্গির মতো এই ব্যাাম। দুই পায়ের মাঝে একফুটের মতো ব্যবধান রেখে দাঁড়াতে হবে। পাতা দুটি বাইরের দিকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে ঘুরিয়ে রাখুন। এ বার পিঠ সোজা রেখে হাঁটু ভেঙে চেয়ারে বসার মতো ভঙ্গি করুন। ৩০ সেকেন্ড সেই ভঙ্গি ধরে রাখার চেষ্টা করুন। ঊরুর পেশিতে টান অনুভব করলে ধীরে ধীরে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
জাম্প স্কোয়াট
সাধারণ স্কোয়াটের মতো করে হাঁটু ভেঙে চেয়ারে বসার মতো ভঙ্গি করুন। ওঠার সময়ে গোড়ালি দিয়ে মাটিতে চাপ দিয়ে শরীরের পুরো শক্তি ব্যবহার করে লাফ দিন। মাটিতে নামার সময় আলতো ভাবে পায়ের আঙুল মাটি স্পর্শ করে সঙ্গে সঙ্গে আবার স্কোয়াটের মতো ভঙ্গি করুন। ৩-৫ সেটে এটি করতে হবে। পায়ে ব্য়থা থাকলে বা বয়স্ক ব্যক্তিরা এটি করবেন না।
আরও পড়ুন:
স্প্লিট স্কোয়াট
স্প্লিট স্কোয়াটে সারা শরীরেরই স্ট্রেচিং হয়। স্প্লিট স্কোয়াট করার জন্য, একটি পা সামনে এবং অন্য পা সামান্য পিছনে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মে (যেমন একটি বেঞ্চ বা স্টেপ) রাখতে হবে। এর পর, শরীরের উপরের অংশ সোজা রেখে একটি পা সামনে নিয়ে আসুন। দুই হাঁটু ভেঙে শরীর সামনের দিকে ঝোঁকান। পিছনের হাঁটু মাটির কাছাকাছি আসবে। ওই অবস্থানে ২০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে যান।
হোল্ডিং স্কোয়াট
চেয়ার, টেবিল বা শক্ত কোনও অবলম্বন ধরে দাঁড়ান। এ বার সেই অবলম্বনটি ধরে রেখে ধীরে ধীরে হাঁটু ভাঁজ করে নীচে নামুন। হাত দিয়ে ধরে থাকায় পড়ে যাওয়ার ভয় নেই এবং কোমরের উপর চাপ কম পড়বে। এই ব্যায়ামটি করলে হাঁটুর ব্যথা কমে যাবে।
গবলেট স্কোয়াট
দুই পায়ের মধ্যে ব্যবধান রেখে দাঁড়ান। বুকের কাছে একটি ডাম্বেল বা কেটলবেল ধরে রাখুন। এ বার ওজন নিয়েই হাঁট ভেঙে ধীরে ধীরে চেয়ারে বসার মতো ভঙ্গি করুন। ৩০-৪০ সেকেন্ড সেই ভঙ্গিতে থেকে আবার গোড়ালির উপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান।