ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার অর্থ হল রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখার উপায় খুঁজে বার করা। রক্তে শর্করার মাত্রা সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায়, দুপুরে বা রাতে খাওয়ার পর। ভারতীয়েরা মূলত দুপুর আর রাতে ভাত-রুটিই বেশি খান। ভাত ও রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবিটিস রোগীদের এই বিষয়টি নিয়ে বেশ সতর্ক থাকা জরুরি। ভাত-রুটি না ছেড়েও কী ভাবে রক্তে ‘সুগার স্পাইক’ কমাবেন, তা জেনে রাখা জরুরি। নেটপ্রভাবীদের কেউ কেউ বলছেন, খাওয়ার আগে এক বাটি স্যালাড খেয়ে নিলে রক্তের শর্করার মাত্রা এক লাফে অনেকটা বাড়তে পারে না। রক্তে গ্লুকোজ় শোষণের হার কমে যায়। এই ধারণা কি ঠিক?
বেঙ্গালুরু নিবাসী ডায়াবেটোলজিস্ট পূজা পিল্লাইয়ের মতে, ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য ভাত বা রুটি খাওয়ার আগে এক বাটি স্যালাড খাওয়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল। তিনি বলেন, “ফাইবার সমৃদ্ধ কাঁচা স্যালাড কার্বোহাইড্রেট থেকে গ্লুকোজ় শোষণের গতি কমিয়ে দেয়, ফলে খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। স্যালাডের মধ্যে শসা, টম্যাটো, গাজর, ক্যাপসিকাম এবং লেটুস খাওয়া যেতে পারে।”
চিকিৎসকের মতে, কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার প্রায় ৩০-৬০ মিনিট পর রক্তে গ্লুকোজে়র মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এই মাত্রা কতটা বাড়বে এবং কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা অনেকগুলি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে বা আগে আপনি কী খেয়েছেন, কার্বোহাইড্রেটে কী পরিমাণ ফাইবার আছে এবং আপনার শরীরের ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণ ও ব্যবহারের ক্ষমতা কেমন। তিনি আরও বলেন যে, গ্লুকোজ়ের মাত্রা বেশি ও দীর্ঘস্থায়ী হলে তা প্রদাহ সৃষ্টিকারী হরমোন ও প্রোটিন সহ বেশ কিছু হরমোন ও প্রোটিনের উপর দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। প্রদাহ ডায়াবিটিস এবং হৃদ্রোগ-সহ বিভিন্ন অসুখের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
খাদ্যের ক্রমবিন্যাস
দিল্লিনিবাসী পুষ্টিবিদ লভনীত বত্রার মতে, শাকসব্জি ও প্রোটিন দিয়ে খাবার শুরু করে কার্বোহাইড্রেট দিয়ে তা শেষ করলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি থাকে। এর কারণ, প্রোটিন কার্বোহাইড্রেট থেকে রক্তপ্রবাহে শর্করার নিঃসরণের গতি কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ও পরে তা দ্রুত কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় না। পুষ্টিবিদ আরও বলেন, স্যালাড নিয়ম মেনে খেলে তবেই কিন্তু লাভ হবে। এতে ক্রিম, সস্ বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত মশলা মেশালে স্যালাডের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে মূল খাবারের সঙ্গেই স্যালাড খান, সেটাও কিন্তু ঠিক নয়। স্যালাড খাওয়া সম্পূর্ণ করে তার পরেই কিন্তু মূল খাবার খাওয়া উচিত।