রাতে শুলেই হাজার চিন্তা ঘিরে ধরে। কাজের চাপ, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তাও হয়। অতিরিক্ত উদ্বেগে ঘুমই আসতে চায় না। যদিও বা দু’চোখের পাতা কখনও এক হল, কিছু সময় পরেই ঘুমটা ভেঙে যায়। দিনভর পরিশ্রমে শরীর পরিশ্রান্ত, কিন্তু ঘুম নেই দু’চোখে। এমন সমস্যা এখন অনেকেরই। শত চেষ্টাতেও অবাধ্য চোখকে ঘুম পাড়ানো যাচ্ছে না!
কমবয়সিরা ঘুম ভেঙে গেলে মোবাইল-ল্যাপটপ খুলে বসে পড়েন। প্রৌঢ়-বৃদ্ধেরাও আজকাল সেই পন্থাই অনুসরণ করছেন। ফল, মোবাইলের নীল আলোয় ঘুমের একেবারে দফারফা। অনেকে আবার চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করে ঘুমের ওষুধ ঘরে মজুত করে রাখেন। এই ওষুধপত্রেরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক। তা হলে কী করণীয়? কী ভাবে শোয়া মাত্রই ঘুম আসবে?
১) ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি অনিদ্রার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
রাতে ভাল ঘুম না-আসার নেপথ্যে কারণ হতে পারে শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি। এই খনিজ উপাদানটি এমন সব নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতার জন্য দায়ী যা ঘুমের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।
২) ক্যামোমাইল চা ঘুমের চক্র ঠিক করতে পারে
ঘুম আসতে দেরি হলে বা ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে অনেকে সহজাত ভাবেই কিছু সাপ্লিমেন্টের শরণাপন্ন হন। তবে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনেও ঘুমের চক্রকে নিয়মিত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ক্যামোমাইল চা ভাল বিকল্প। কারণ, এটি শরীরকে শিথিল করতে এবং কোনও সাপ্লিমেন্টের উপর নির্ভর না করেই দ্রুত ঘুম আনতে সাহায্য করে।
৩) উষ্ণ জলে স্নান বেশ কাজের
ভাল ঘুমের শুরুটা হয় ঘুমের সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে। শোয়ার ঘরটি অন্ধকার, শীতল ও শান্ত রাখার অভ্যাস এর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া ঘুমোনোর আগে উষ্ণ জলে স্নান করাও এক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। স্নানের পর শরীর যখন ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে থাকে, তখন শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমে যায়। এটি শরীরকে সংকেত দেয় যে এখন ঘুমের সময় হয়েছে, ফলে সহজে ঘুম চলে আসে।