দুনিয়া জুড়ে ক্যানসার সংক্রান্ত যত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে তার মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে মলাশয় বা কোলনের ক্যানসার। আর সম্প্রতি এই ক্যানসারের সতর্কতার নির্দেশিকায় কিছু বদলও এসেছে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি-সহ বেশ কিছু স্বাস্থ্যসংস্থা কোলন ক্যানসারের স্ক্রিনিং বা ঝুঁকি পরীক্ষা করার বয়স নামিয়ে এনেছে ৪৫ বছরে।
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ওই স্ক্রিনিংয়ের জন্য ৫০ বছরের মেয়াদ নির্দিষ্ট করেছিল। কিন্তু ইদানীং অল্পবয়সিদের মধ্যেও কোলন ক্যানসারের প্রবণতা বাড়তে শুরু করায় নতুন করে ভাবতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসংস্থাগুলিকে। তবে এই তথ্যে ভয় না পেয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন ক্রিটিকাল কেয়ারের এক চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্য। তিনি বলছেন, ‘‘কোলনের ক্যানসার হল এমন একটি ক্যানসার যা সময়ে ধরা পড়লে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই ভয় পাওয়ার চেয়ে আগাম সতর্ক হলে কাজ হবে বেশি।’’
চিকিৎসকের মতে, ওই ধরনের ক্যানসারের সূচনা হয় রেকটাম বা মলদ্বারে ছোট ছোট পলিপের মাধ্যমে। যা ১০-১৫ বছর পরে ক্যানসারে পরিণত হতেও পারে। সতর্ক হতে দু’টি প্রাথমিক পরীক্ষা করাতে বলছেন তিনি।
১। ফিকাল ইমিউনো কেমিক্যাল পরীক্ষা: আদতে সাধারণ স্টুল টেস্ট বা মলের পরীক্ষা। মলের সঙ্গে রক্ত বেরোচ্ছে কি না তা এর থেকে জানা যাবে। যদি পলিপ থাকে তবে রক্ত ধরা পড়বে এই পরীক্ষায়। বছরে এক বার এই পরীক্ষা করানো যেতে পারে।
২। কোলোনোস্কপি: এতে বৃহদন্ত্রে পলিপ রয়েছে কি না তা স্পষ্ট ধরা পড়ে। যদি থাকে তবে কোলোনোস্কপি চলাকালীনই তা সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পলিপ থেকে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমবে অনেকটাই।
বাড়িতে যদি আগে কারও কোলন ক্যানসার হয়ে থাকে, তবে ৪৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আরও আগেই পরীক্ষা করাতে বলছেন চিকিৎসক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী সে ক্ষেত্রে ৩৫ বছর বয়স থেকেই সতর্ক হওয়া উচিত।
যদিও যে কোনও পরীক্ষা করানোর আগে নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই জরুরি। তিনিই রোগীকে পরীক্ষা করে বলে দিতে পারবেন, কোন পরীক্ষা কখন করা উচিত।