Advertisement
E-Paper

শুধু দাদ-অ্যালার্জি নয়, বর্ষায় ছত্রাক বা মাছির থেকেও মারাত্মক সংক্রমণ ঘটে ত্বকে, লক্ষণ চেনা জরুরি

বর্ষার সময়ে দাদ বা নানা প্রকার অ্যালার্জি নিয়ে আতঙ্কে থাকেন অনেকে। তবে এই সময়ে ছত্রাক ও নানা রকম পরজীবী ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। লক্ষণ চিনে সতর্ক না হলে তা মারাত্মক চর্মরোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৩:১৫
Warning Signs of Rare and Dangerous Monsoon Skin Infections you must beware of

বর্ষায় ত্বকের বিরল সংক্রমণ ঘটে মাছি, ছত্রাক থেকে। ছবি: ফ্রিপিক।

বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ত্বকের নানা সংক্রমণ ঘটেই। এমন আবহাওয়া নানা প্রকার ব্যাক্টেরিয়া-ছত্রাক বা পরজীবীর বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল। কাজেই দাদ, হাজা, অ্যাথলেট’স ফুট, স্ক্যাবিসের মতো সংক্রমণ হয়েই থাকে। কিন্তু এই সময়ে আরও কিছু চর্মরোগের লক্ষণ দেখা দেয় যা নিয়ে ধারণা নেই অনেকেরই। লালচে র‌্যাশ বা ফোস্কার মতো কিছু দেখলে অ্যালার্জি বলেই মনে হয়, কিন্তু হতেই পারে সেগুলি এমন কিছু ছত্রাক বা পরজীবীর সংক্রমণ যা ছড়িয়ে গেলে বিপজ্জনক চর্মরোগ হতে পারে।

স্পোরোট্রিকোসিস

স্পোরোট্রিকোসিস

স্পোরোট্রিকোসিস

ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ। দাদা বা স্ক্যাবিসের থেকেও বেশি বিপজ্জনক। স্পোরোথ্রিকস নামক ছত্রাক থেকে ঘটে সংক্রমণ। বর্ষায় ভিজে মাটি, শৈবাল, পচা পাতার স্তূপ বা আবর্জনা থেকে ছড়ায় এই ছত্রাক। বর্ষার জমা জল থেকেও ঘটে সংক্রমণ। প্রথমে লালচে র‌্যাশ বা ছোট ছোট ফোস্কার মতো পড়ে ত্বকে। সেই সময়ে চিকিৎসা না হলে সেগুলি বেড়ে গিয়ে আলসারের মতো চেহারা নেয়। এই ছত্রাক কোনওভাবে শরীরে ঢুকলে লসিকা গ্রন্থিগুলি ফুলে ওঠে। শরীরের ভিতরে বিষক্রিয়া ঘটে মারাত্মক প্রদাহ শুরু হয়। চামড়ায় জ্বালাপোড়া ক্ষতও হয়। সাধারণ অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ক্রিমে এমন চর্মরোগ সারে না। লক্ষণ বুঝলে, চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ছাড়া গতি থাকে না।

কিউটেনিয়াস মিউকরমাইকোসিস

কিউটেনিয়াস মিউকরমাইকোসিস

কিউটেনিয়াস মিউকরমাইকোসিস

বিরল ত্বকের সংক্রমণ যা বর্ষার সময়েই বেশি হয়। এই ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটলে শরীরের ভিতরের কোষের ক্ষয় শুরু হয়। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া এবং পচনশীল জৈব পদার্থে এই ছত্রাক বাড়ে। করোনার সময়েও এই ছত্রাকের সংক্রমণ ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। আক্রান্ত স্থানটি দ্রুত লাল হয়ে ফুলে ওঠে এবং তীব্র ব্যথা হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতটি কালচে রং ধারণ করে। ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল বার হতে থাকে। মিউকরমাইকোসিস হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা প্রয়োজন। সংক্রমণ বেশি জায়গায় ঘটলে অস্ত্রোপচারে শরীরের সেই অংশের কোষ কেটে বাদ দিতেও হতে পারে। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যাঁদের কম, যেমন শিশু ও বয়স্কদের, এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তা ছাড়া যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে ডায়াবিটিসে ভুগছেন, যাঁদের ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে বা সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগ রয়েছে, তাঁদের এমন ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।

মায়াসিস

মায়াসিস

মায়াসিস

পরজীবীঘটিত ত্বকের সংক্রমণ। বিভিন্ন প্রজাতির মাছি থেকে ঘটে এই রোগ। বর্ষার সময়ে ত্বকের কোনও ক্ষতস্থানে বা খোলা খাবারে মাছি ডিম পাড়ে। সেই ডিম ফুটে লার্ভা বার হয়ে তা যদি শরীরে ঢুকে যায়, তা হলে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটে। প্রথমে ত্বকের নানা জায়গা ফুলে উঠে ফোঁড়ার মতো হয়। এই ফোঁড়ার মাঝখানে একটি ছোট ছিদ্রের মতো থাকে যেখান দিয়ে লার্ভা শ্বাস নিতে পারে। ফোঁড়ার চারপাশের ত্বক ফুলে ওঠে তীব্র যন্ত্রণা হয়। ত্বকে এমন ফোঁড়া দেখলেই সতর্ক হতে হবে। অনেক সময়ে লার্ভা ত্বকের গভীরেও ঢুকে যায়। তখন ত্বকের উপর ক্ষত তৈরি হয়। ভিতরে লার্ভার নড়াচড়া টের পাওয়া যায়। ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বা পুঁজ বার হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকলে বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে এমন সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।

Skin Disease Monsoon Care

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy