হার্টের রোগ এখন যে কোনও বয়সেই হয়। কিছু গবেষণায় এ-ও দেখা যাচ্ছে যে, অল্পবয়সিদের অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম বা মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ থেকে চোখ না সরানোর অভ্যাস হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সঙ্গে ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরলের মতো রোগও জীবনধারার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে। বয়স চল্লিশ পেরোলেই বাতের ব্যথা কাবু করে ফেলছে। তার সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে অবসাদ। অনেকেই বলছেন মন ভাল থাকছে না। উদ্বেগ-দুশ্চিন্তার কারণে শরীর আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। চলতে-ফিরতে ভারসাম্য হারাচ্ছেন প্রায়ই। এমন সব সমস্যায় সমাধান সবসময় যে ওষুধেই হয় তা নয়। চিকিৎসকেরা বলেন, নিয়ন্ত্রিত ব্যায়ামই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। হৃদ্রোগের ঝুঁকি যদি কমাতে হয়, তা হলে ব্যায়ামের কোনও বিকল্প নেই।
তুলাদণ্ডাসন যোগাসনের এমন এক পদ্ধতি, যা শরীরের ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। এই ব্যায়াম অভ্যাসে সারা শরীরে রক্তসঞ্চালন ঠিকমতো হয়। ফলে হরমোনের ক্ষরণও নিয়ম মেনেই হতে থাকে।
কী ভাবে করবেন?
১) প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। পিঠ টানটান থাকবে। এ বার শ্বাস নিতে নিতে দুই হাত মাথার উপর তুলুন।
২) মেরুদণ্ড সোজা রেখে সামনের দিকে ঝুঁকতে হবে। এই সময়ে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে হবে।
৩) শরীর ঝোঁকানোর সময়ে ডান অথবা বাঁ পা মাটি থেকে তুলে নিয়ে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে হবে।
৪) অন্য পা থাকবে মাটিতে। একটি পায়ে গোটা শরীরের ভার বইতে হবে। শুরুতে সমস্যা হলেও, ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:
৫) শরীর সামনের দিকে যতটা ঝোঁকাবেন, পা পিছনের দিকে ততটাই তুলতে হবে। অর্থাৎ, হাত, ঘাড়, পিঠ, কোমর এবং পা যেন একটি সরলরেখায় থাকে। অন্য পা থাকবে মাটিতে।
৬) আসনের ভঙ্গিমা হবে অনেকটা ‘টি’ অক্ষরের মতো।
৭) এই অবস্থানে থাকুন ৩০ সেকেন্ড। অভ্যাস হয়ে গেলে ১ মিনিট। পরে পা বদলে ফের আসনটি অভ্যাস করতে হবে।
উপকারিতা:
হৃদ্যন্ত্র ভাল থাকবে, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
সারা শরীরে রক্তসঞ্চালন ঠিকমতো হবে, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কমবে।
শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকবে।
পেশির জোর বাড়বে, সায়াটিকার ব্যথা থাকলে তা কমে যাবে।
নিয়মিত আসনটি অভ্যাসে আর্থ্রাইটিস, অস্টিয়োপোরোসিসের মতো হাড়ের অসুখ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।
কারা করবেন না?
ভার্টিগোর সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আসনটি করা যাবে না।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আসনটি না করাই ভাল।