পুজোর দিন সুন্দর শাড়ি পরুন বা লেহঙ্গা, খোলা পিঠের ব্লাউজ় সব পোশাককেই আরও সুন্দর করে তোলে। ডিপ-কাট কিংবা হল্টারনেক ব্লাউজ় বা পোশাকের কাটিং যত জমকালোই হোক, পিঠের অনাবৃত ত্বক যদি মসৃণ, ঝকঝকে আর দাগহীন না হয়, তবে পুরো সাজটাই মাটি হবে। মুখের পাশাপাশি পিঠের ত্বকও প্রতিদিনের ধুলোবালি, রোদে পোড়া দাগছোপ আর ব্রণের দাগে তার স্বাভাবিক জেল্লা হারায়। তাই পিঠেরও পরিচর্যা প্রয়োজন। মাখনের মতো নরম, মসৃণ ও দাগহীন পিঠের জন্যও সৌন্দর্য থেরাপি হয়। চটজলদি ফল পেতে তিন রকম সৌন্দর্যচর্চায় ভরসা রাখতে পারেন।
ব্যাক কেমিক্যাল পিলিং
শুষ্ক, অকালে বুড়িয়ে যাওয়া, নিষ্প্রাণ ত্বকে ফের জেল্লা ফিরিয়ে আনতে পারে এস্থেটিক ট্রিটমেন্ট। কোনও রকম সার্জারি ছাড়া ত্বকের দাগছোপ, বলিরেখা, কুঁচকে যাওয়া ত্বক প্রভৃতি নানা সমস্যার সমাধান করা যায় এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে। এরই একটি হল কেমিক্যাল পিলিং। অত্যন্ত পরিচিত এই পদ্ধতিতে ত্বকের উপর গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বা রেটিনয়িক অ্যাসিড বা এই ধরনের উপাদানের একটি প্রলেপ দেওয়া হয়। এর ফলে ত্বকের উপরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি ধীরে ধীরে উঠে যায়। যে নতুন ত্বক তৈরি হয়, তা আরও ঝকঝকে, মসৃণ ও দাগবিহীন হয়। বলিরেখা, পিগমেন্টেশন, ব্রণর দাগ-ক্ষত দূর করতে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
ডিপকাট পরতে হলে পিঠের পরিচর্যা করতেই হবে।
লাভ কী কী হয়: মুখের মতো পিঠেও কেমিক্যাল পিলিং করা হয়। এতে কালচে দাগছোপ, রোদে পোড়া দাগ, মেচেতার দাগ, ব্রণ বা র্যাশের দাগ অথবা আঁচিলের দাগ উঠে যায়। পিঠ নরম, মসৃণ দেখায়।
খরচ: কেমিক্যাল পিলিং কোন সালোঁয় করাচ্ছেন ও সেখানে কী কী প্রসাধনী ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর খরচ নির্ভর করবে। প্রতি সেশনের আনুমানিক খরচ ৩০০০ থেকে ৭০০০ টাকার মতো।
ব্যাক হাইড্রাফেশিয়াল
এই পদ্ধতি একেবারে যন্ত্রণাবিহীন। একটি বিশেষ ভ্যাকুয়াম যন্ত্রের সাহায্যে রোমকূপের ভিতর থেকে মৃত কোষগুলিকে নিষ্কাশন করা হয়। হাইড্রাফেশিয়াল মুখে করা হয়, আবার পিঠেও করা যেতে পারে। আগে ত্বকের ক্লিনজ়িং ও এক্সফোলিয়েশন করে নেওয়া হয়, তার পর ত্বকের গভীর থেকে ধুলোময়লা টেনে বার করে আনা হয় বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে। তার পরে, ময়শ্চেরাইজ়ার লাগানো হয়। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, পেপটাইড-এর একটি মিশ্রণও লাগানো হয় ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য। সঠিক পদ্ধতিতে করলে ব্রণ, ফুস্কুড়ি, দাগছোপ, ব্ল্যাকহেডস— এ সবের থেকেই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
মাখনের মতো নরম, মসৃণ ও দাগহীন পিঠের জন্যও সৌন্দর্য থেরাপি হয়।
লাভ কী কী হয়: তৈলাক্ত ত্বক, ব্রণ-ফুস্কুড়ি, ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডসের সমস্যা থাকলে এই ফেসিয়াল খুব ভাল। পিঠে অনেকেরই ব্রণ হয় বা কালচে দাগছোপ থাকে। মেচেতার দাগও থাকে। এ ক্ষেত্রে হাইড্রাফেসিয়াল করালে দাগছোপ দ্রুত উঠে যায়। তবে ত্বক যদি স্পর্শকাতর হয় এবং আগে থেকেই র্যাশ, কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস বা এগ্জ়িমা, সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের অসুখ থাকে, তা হলে ত্বক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ফেসিয়াল না করানোই ভাল।
খরচ: সাধারণ হাইড্রাফেশিয়ালের প্রতি সেশনের খরচ ২৫০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে। তবে স্পেশ্যাল ট্রিটমেন্ট করালে খরচ ৮ থেকে ১২ হাজারের মতো হবে।
ব্যাক পলিশিং করালে রোদে পোড়া দাগ উঠে যায়।
ব্যাক পলিশিং ও ডি-ট্যান থেরাপি
প্রাকৃতিক এসেনশিয়াল অয়েল, বডি স্ক্রাব ও ডি-ট্যান প্যাকের সমন্বয়ে এক ধরনের স্পা করা হয়, যা পিঠের উজ্জ্বলতা তাৎক্ষণিক ভাবে বাড়িয়ে দেয়। পিঠ দেখতে খুব পেলব ও চকচকে লাগে। কোনও উৎসব, অনুষ্ঠান বা বিয়ের আগে অনেকেই এই ট্রিটমেন্ট করিয়ে নেন। প্রথমে অর্গ্যানিক স্ক্রাব দিয়ে ৫-১০ মিনিট পিঠ মাসাজ করে এক্সফোলিয়েট করা হয়। এর পর বাষ্প দিয়ে রোমকূপ শিথিল করে ময়লা পরিষ্কার করা হয়। আলফা-আরবুটিন সমৃদ্ধ ডি-ট্যান ব্রাইটেনিং মাস্ক লাগিয়ে রাখা হয় কিছুক্ষণ। এর পর মাস্ক ধুয়ে হালকা মাসাজ বা বডি বাটার দিয়ে ময়েশ্চারাইজ় করা হয়।
লাভ কী কী হয়: পিঠের দাগছোপ, ব্রণর সমস্যা দূর হয় তাড়াতাড়ি। পুজোর ঠিক আগে করিয়ে নিলে পিঠ ঝকঝকে ও মসৃণ দেখাবে। স্পর্শকাতর ত্বক হলেও এই বিউটি ট্রিটমেন্ট করানো যাবে।
খরচ: আনুমানিক খরচ প্রতি সেশনে ১৮০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মতো। তবে সালোঁর উপর খরচ নির্ভর করবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা