দিনভর শরীরে যা যা দূষিত পদার্থ জমা হয়, কিডনির কাজ হল, তা শরীর থেকে ঠিক সময়ে বার করে দেওয়া। অর্থাৎ, কিডনির কাজ হল অনেকটা ছাঁকনির মতো। কিডনির কাজ কতটা জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝা যায় শরীরের এই অঙ্গটি নিজের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পরে। তখন চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটি, ব্যয়বহুল ডায়ালিসিসের উপর ভরসা করা ছাড়া গতি থাকে না। আজকাল কিডনির রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন কমবয়সিরাই। কিডনিতে পাথর জমার সমস্যা তো আছেই, পাশাপাশি, কিডনিতে সংক্রমণ, পলিসিস্টিক কিডনির অসুখ এবং ফ্যাটি কিডনির লক্ষণও ধরা পড়ছে। তাই আগে থেকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সে জন্য ব্যায়ামই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
কিডনি ভাল থাকবে যোগাসন অভ্যাসে। বিশেষ করে নটরাজন বা ‘ড্যান্সার পোজ়’ অভ্যাসে কিডনির জটিল রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমবে বলেই মনে করেন যোগাসন প্রশিক্ষকেরা।
কী ভাবে করবেন?
১) প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। কোমর, পিঠ যেন টান টানটান থাকে।
২) দুই হাত শরীরের দু’পাশে থাকবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
৩) এ বার ডান হাঁটু ভাঁজ করে যতটা সম্ভব পিছন, অর্থাৎ পিঠের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। বাঁ হাতটি কাঁধের উপর তুলুন।
৪) ডান পা এমন অবস্থানে তুলতে হবে যাতে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ বা পায়ের পাতা ডান হাত দিয়ে ধরা যায়। সেই অনুযায়ী শরীরটাকেও সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে নিতে হবে।
আরও পড়ুন:
৫) পুরো শরীরের ভার থাকবে বাঁ পায়ের উপর। সেই ভাবে ভারসাম্য ধরে রাখতে হবে।
৬) এই অবস্থানে থাকতে হবে ৩০ সেকেন্ড। তার পর আবার পা বদলে অন্য পায়ে অভ্যাস করতে হবে।
উপকারিতা:
১) কিডনি ভাল থাকবে, পাথর জমার ঝুঁকি কমবে।
২) পায়ের পেশির ব্যায়াম হবে, এতে সায়াটিকার ব্যথাও কমবে।
৩) সারা শরীরে রক্তসঞ্চালন ভাল হবে।
৪) নিয়মিত আসনটি অভ্যাস করলে আর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
৫) মহিলারা নিয়মিত ব্যায়ামটি অভ্যাস করলে সারা শরীরের স্ট্রেচিং হবে।
৬) বিপাকহার ভাল হবে, হজমশক্তি বাড়বে।
৭) আসনটি অভ্যাসে মনঃসংযোগ বাড়বে, উদ্বেগ কমবে।
কারা করবেন না?
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আসনটি করা ঠিক হবে না।
হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।